ঢাকা | সোমবার | ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ফেসবুক গ্রুপে দুর্বৃত্ত ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ইউনিলিভার কর্মী সুমাইয়া

ফেসবুকে ‘ওডিবি-এম-১৭০১ (অপারেশন ঢাকা ব্লকেড)’ নামে একটি গোপন গ্রুপ চালিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশে কর্মরত সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনের বিরুদ্ধে। সুমাইয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাদিকুল হকের স্ত্রী এবং এই গোষ্ঠীর অন্যতম অ্যাডমিন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি এ গ্রুপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের পাঠানো তথ্য গুগল শিটে সংগ্রহ করতেন। সুমাইয়া গোপন কোড ব্যবহার ও অনলাইন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় করতেন। এছাড়াও, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো ট্রেকার বা টোকাইদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার পরিকল্পনার অংশ ছিলেন।

রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টার, বিভিন্ন রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক ফ্ল্যাটে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন সুমাইয়া ও তার স্বামী। তদন্তে আরও বেশ কিছু নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ তৎপর।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সুমাইয়াকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

৮ জুলাই রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৩০০-৪০০ জন অংশগ্রহণ করেন। তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলেই দেশের অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

মামলার পর ১৩ জুলাই ভাটারা থানার এসআই জ্যোতির্ময় মণ্ডল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। সুমাইয়াকে গত বুধবার মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তিনি ইউনিলিভারে টেরিটরি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুমাইয়া ও তার স্বামী পূর্বাচলের সি-সেল রিসোর্ট, কাঁটাবনের রেস্টুরেন্ট এবং মিরপুর ডিওএইচএসসহ বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠক করেছেন। উত্তরা ও প্রিয়াংকা সিটির ফ্ল্যাটেও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে। বৈঠকগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে পুনরায় সক্রিয় করা এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনাটির পেছনের ভূমিকা ও অন্যান্য সহযোগীদের নাম উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, সুমাইয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, সুমাইয়ার আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন জানান, যার নাম মামলায় নেই, তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে অযাচিত অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন এবং রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। সুমাইয়া দাবি করেছেন, তিনি কোনো অবৈধ কাজে জড়িত নন এবং আদালত ন্যায়বিচার করবেন।