ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়ে চলছে উদ্বেগ

বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক গতিতে বাড়ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৯০০ ছাড়িয়ে গেছে, আর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এই পরিমাণের বেশি। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তীব্র হচ্ছে। বিশেষভাবে বরগুনা সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, বেতাগী, তালতলী এবং বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। বরগুনা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের চাপ বেড়ে গিয়েছে। অনেক হাসপাতালেই বেড ও জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে।

বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি জুন মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৫০০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশই শহুরে এলাকা থেকে হলেও গ্রামীণ অঞ্চলেও আক্রান্তের হার ত্বরান্বিত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সংখ্যাই বেশি।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকা জানিয়েছেন, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও রোগীর হারে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। হাসপাতালের বেড সংকট, স্যালাইন ও ওষুধের অভাব এবং প্রয়োজনীয় জনবল কম থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।’ তিনি আরও জানান, মশার কামড়ের কারণে পুনরায় ডেঙ্গু হওয়ার ঝুঁকি থাকায় হাসপাতাল চত্বরেও মশা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বরগুনা ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলায় জরুরি টাস্কফোর্স গঠন করেছি এবং জেলার প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম তৈরি করা হয়েছে। সাথে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে শুধু চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে মশক নিধনে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন।’

তবে বরগুনা পৌরসভার অনেক নাগরিক অভিযোগ করেছেন, পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রম হিসেবে পর্যাপ্ত নয় এবং অনেক এলাকায় মশার প্রজননস্থল এখনও মুছে ফেলা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতা সবচেয়ে কার্যকর। প্রতিদিন ঘরের আশপাশ জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া, ফুলের টব, ড্রাম, কনটেইনার, এসি ট্রে ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। পাশাপাশি দিনে ও রাতে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাবার জন্য মশারি ব্যবহার ও মশা নিধনের স্প্রে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।