ঢাকা | শনিবার | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০০০ কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা দিল

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঈদুল আজহা সামনে রেখে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডকে জরুরি ভিত্তিতে ১০০০ কোটি টাকার তহবিল প্রদান করেছে। এই সহায়তা গৃহীত হয়েছে সুদ হার ১১.৫ শতাংশে, এবং এটি ৯০ দিনের জন্য প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাসনাল ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রাহকদের অর্থ যথাসময়ে ফেরত দিতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সহায়তার আবেদন জানায়, যা গ্রহণ করে এই তহবিল প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে নগদ অর্থের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়, ফলে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তারল্য প্রয়োজন হয়। আমানত সংগ্রহ ও ঋণ আদায় দ্বারা ঘাটতি পূরণ সম্ভব না হওয়ায় এই সহায়তা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় এই ধরনের সহায়তায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল দায়িত্ব হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা না দিলে সেটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সহায়তা দিয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

অন্য এক কর্মকর্তা জানায়, এই তহবিল ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ নোটের বিপরীতে প্রদান করা হয়েছে; যা সরাসরি মূল্যস্ফীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের মুদ্রানীতিতে বর্তমান সময়ে সংকোচনমূলক নীতি চালু রয়েছে, যেখানে প্রথমেই চলতি বছর ছয় মাসের জন্য সুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর্থিক অস্থিরতার কবলে পড়া এ ব্যাংকের অতীতেও বিভিন্ন সময় পর্ষদ পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে। সম্প্রতি তারল্য সহায়তাও সেই ধারাবাহিকতার এক অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।