ঢাকা | শুক্রবার | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বাফুফে কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তন: ফিরলেন বিপ্লব, থাকছেন ছোটন

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বছরের শুরুতেই কোচিং প্যানেলকে বড় পরিসরে পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য্য আবারও ফেডারেশনের কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এর আগে তিনি বাফুফের অধীনে জাতীয় নারী ও পুরুষ দলের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিতেও গোলরক্ষক কোচ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তবে কিছু সময় ধরে ক্লাব কোচিংয়ে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য ফেডারেশন থেকে বিরত থাকলেও, তিনি দুই বছরের বিরতির পরে আবারও পুরোনো কর্মস্থলে ফিরছেন। এ ছাড়াও, বাফুফে নতুন বছর শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিনজন নতুন কোচ নিয়োগ দিয়েছে; তাঁরা হলেন সাবেক ফুটবলার আতিকুর রহমান মিশু, আকবর হোসেন রিদন এবং নারী ফুটবলার লিনা চাকমা। মিশু এর আগে ফর্টিজ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন এবং তৃণমূল ফুটবলে কাজ করার আগ্রহ থেকেই বাফুফেতে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, লিনা চাকমাকে নারী ফুটবল ও ফুটসাল—দুটো ক্ষেত্রেই কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়েছে ফেডারেশন।

কোচিং প্যানেলে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি ফেডারেশন পুরোনোদের ওপরও আস্থা রেখেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর তারিখে শেষ হওয়া চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী, বাফুফের হেড কোচ ছোটনের চুক্তি এক বছর জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর সঙ্গে, ২০২৫ সালে বাফুফের সঙ্গে কর্মরত ২১ জন কোচের চুক্তিও আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। ফলে, ২০২৬ সালে বাফুফের কোচ প্যানেলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫ জনে। মূলত, ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) দ্বারা প্রাপ্ত অর্থের একটি বিরাট অংশ স্থানীয় কোচদের পারিশ্রমিক এবং উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। এএফসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরের কোচের তালিকা কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠাতে হয়, যা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বাফুফে।

তবে, এত বেশি সংখ্যক স্থানীয় কোচ থাকা সত্ত্বেও তাদের দক্ষতা ও ব্যবহারে কিছু প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত এএফসি অ-১৭ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে, বাফুফে প্যানেলের বাইরে থাকা বিকেএসপির কোচ ইমরুলকে সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠেছে—প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করেও বয়স ভিত্তিক দলের জন্য যোগ্য সহকারী কোচ খুঁজে পাচ্ছে না কেন? যদি প্যানেলভুক্ত কোনো কোচ এই পদের জন্য উপযুক্ত না হন, তবে এই বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এসব সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে হলে বাংলাদেশের ফুটবলের সামগ্রিক মানোন্নয়নের জন্য কোচদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। এটি বড় ধরণের প্রচেষ্টা দাবি করে, যাতে দেশের ফুটবল আরও উন্নত হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে ওঠে।