ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বায়ুদূষণে শীর্ষ পাঁচ শহরের মধ্যে দুইই ইন্দোনেশিয়া থেকে, ঢাকা নেই তালিকার কাছে

বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বায়ুমানেও গুণগত পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা এখন অনেক নিচে অবস্থান করছে, দূষণের মাত্রাও অনেকটাই কমেছে। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার বায়ুদূষণের মান অস্বাস্থ্যকর থেকে অনেক ভালো পর্যায়ে এসেছে।

২৫ জুন বুধবার সকাল ৯টায়, কঙ্গোর কিনশাসা সর্বোচ্চ দূষণের সূচক ১৮৩ একিউআই নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে অবস্থান করেছিল। এরপর অবস্থান করে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা এবং মেদান, যাদের একিউআই স্কোর যথাক্রমে ১৭৭ এবং ১৬৬। শীর্ষ পাঁচ শহরের বাকি দুইটি হলো ভারতের দিল্লি (১৬৬) ও পাকিস্তানের লাহোর (১৬০)। এই শহরগুলোর বাতাস একিউআই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হওয়ায় ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এরপরের কয়েকটি শহরের বায়ুমান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে ছিল, যার একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০। এ পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাইরের কাজ এড়াতে বলা হয়। আর একিউআই সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাস ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

ঢাকার অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে। গত কয়েকদিন ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর মাঝারি পর্যায়ে অবস্থান করছে, যা প্রায় ৬৮। একিউআই সূচকে ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’ এবং ৫০ বা তার কম হলে ‘ভালো’ হিসেবে গণ্য হয়। দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা বর্তমানে ৩১ নম্বরে রয়েছে, যা আগে ২১ এবং ২৬ তম অবস্থানে ছিল তিনদিন আগে এবং গতকাল যথাক্রমে। অর্থাৎ, তিন দিনের ব্যবধানে ঢাকার বায়ুদূষণ কমেছে।

বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা নিরূপণ করা হয় পাঁচটি প্রধান ধরনের দূষক – বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2), কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) এবং ওজোন।

ঢাকা দীর্ঘদিন আয়তনে বায়ুদূষণের কারণে সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে শীতকালে বায়ুদূষণ বেড়ে যায়, যেখানে বর্ষাকালে বাতাস কিছুটা স্বচ্ছ হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এসব মৃত্যুর মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (COPD), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ। এই সংখ্যানুযায়ী দেখতে গ্রহন করতে হবে বায়ুদূষণের গুরুত্ব এবং এর নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন।