ঢাকা | শুক্রবার | ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ হত্যার অভিযোগে ইরানে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানের বিচার বিভাগ বুধবার জানিয়েছে, গত জানুয়ারি মাসের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্য হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তিকে আজ সকালেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মিজান অনলাইন নামে দেশের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে‘জায়নবাদী গোষ্ঠী’ ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার অভিযোগও ছিল।

মিজান অনলাইন জানায়, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা দুটি আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সদস্যকে হত্যা করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করেছে।

পটভূমি: গত জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভোগান্তির প্রতিবাদে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। তখন সরকার বিক্ষোভ দমন করতে সশস্ত্র ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনী মোতায়েন করে; এরপর থেকেই গ্রেপ্তার, রায় ও ফাঁসির মতো বিজৃঙ্খল পরিস্থিতির খবর সামাজিক ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রভাব ফেলেছে।

কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিক্ষোভকালে নিহতের সংখ্যা ৩,১১৭ জন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভিন্ন সংখ্যা রিপোর্ট করেছে; একে-একটি সূত্রে নিহতের সংখ্যা হাজারের ঘর ছাড়িয়েছে—তবে এসব সংখ্যার নির্ভুলতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। জাতিসংঘের একজন বিশেষ দূতও এই সংঘর্ষে মানুষের প্রাণহানির মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, একজন সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—যা সম্পর্কে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তথ্য দিয়েছেন। এর আগেও তেহরান দুই-তিনটি ঘটনায় কথিত গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করেছে এবং কিছু হত্যার রায় কার্যকর করা হয়েছে।

গতকাল সরকার সারা দেশে ব্যাপক অভিযানের কথা জানায়; দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৬টিতে অভিযান চালিয়ে ১১১টি ‘রাজতন্ত্রপন্থী সেল’ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং শত শত মানুষ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানে চলমান ব্যাপক গ্রেপ্তার, দমন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তারা মামলা-নির্বাহী কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, স্বাধীন বিচার প্রক্রিয়া ও নিহত ও গ্রেপ্তারদের সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে আসছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বা নিজেদের অবস্থান বিবৃতিতে তুলে ধরে চলেছে।