ঢাকা | শনিবার | ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বিদ্যুতের খুচরা দাম প্রতি ইউনিটে ১.২৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসির

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এই মূল্যক্রমে দাম বাড়ানো হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কমবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিইআরসি’র δεύτε দিনের গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এই আলোচনায় কমিশন ও সংশ্লিষ্ট স্থায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কারিগরি কমিটির এই প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশব্যাপী ৯৫ হাজার ৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ বিক্রি বাস্তবায়নে বিতরণ সংস্থাগুলোর মোট প্রয়োজন হবে আনুমানিক ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা নিট রাজস্ব।

এছাড়াও, কমিটির পর্যালোচনায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেমে লোকসান বা লস শতাংশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭.৩৮ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭.৩৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফ কাঠামো সম্পর্কেও বিইআরসি জানায়, লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) জন্য ভবিষ্যতে কোন পরিবর্তনের পরিকল্পনা এখনও নেই। বর্তমানের মতোই বিভিন্ন স্ল্যাব ভিত্তিক বিদ্যুৎ মূল্যক্রম থাকবে, যেখানে কোনও অতিরিক্ত চাপ বা বোঝা চাপানো হবে না।

প্রসঙ্গত, আগের পরিস্থিতিতে ০-৭৫ ইউনিটের প্রথম স্ল্যাবটি বাতিল করে এর পরিবর্তে ০-২০০ ইউনিটের নতুন স্ল্যাবের প্রস্তাব আলোচনায় আসলেও, কারিগরি কমিটি মনে করে এই পরিবর্তন করলে প্রান্তিক গ্রাহকরা অপ্রয়োজনীয় ঝামেলায় পড়বেন। সেই কারণে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যমান স্ল্যাব কাঠামোই অপরিবর্তিত রাখতে সুপারিশ করেছে কমিটি।