নানা আয়োজনে গাজীপুরে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শনিবার গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী নুহাশ পল্লীতে এ উপলক্ষে কোরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং মোনাজাত শেষে মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “সব লেখকেরই স্বপ্ন থাকে যে তাদের বই পেঙ্গুইন পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হবে। হুমায়ূন আহমেদ জীবদ্দশায় তাঁর বই পেঙ্গুইন পাবলিকেশন থেকে প্রকাশের ইচ্ছে পোষণ করতেন। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সম্প্রতি আমরা পেঙ্গুইন পাবলিকেশনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি এবং খুব শিগগিরই হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন বই পেঙ্গুইন থেকে উদ্ধার করা হবে।”
শাওন আরও জানান, “হুমায়ূন আহমেদ যেভাবে নুহাশ পল্লী প্রতিষ্ঠা করেছেন, আমরা সেটি ঠিক সেই রীতিতে সংরক্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। নুহাশ পল্লী শুধুমাত্র একটি শুটিং স্পট নয়, এটি গাছপালা ও পাখিদের অভয়ারণ্য। গত ১৩ বছরে এ এলাকায় প্রায় ৫০ প্রজাতির বিরল গাছ লাগানো হয়েছে। এখনো যদি কোথাও কোনও দূর্লভ গাছ পাওয়া যায়, আমরা সেটি নিয়ে এসে নুহাশ পল্লীতে রোপণ করি।”
তিনি স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন, “স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণের জন্য যথেষ্ট আর্থিক সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি, তবে তার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা না পারলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই এ উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।”
দিবসটি কোরআন তেলাওয়াত এবং কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হয়। আশপাশের একাধিক মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী ও এতিমখানার শিশুরা নুহাশ পল্লীতে এসে অংশগ্রহণ করে। পরে ছেলে নিষাদ, কন্যা নিনিত এবং স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ অনেক হুমায়ূন আহমেদ ভক্ত ও কর্মচারীরা কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ফাতেহা পাঠ ও দোয়ায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যেমন অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মো. মাজহারুল ইসলাম, ধী প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ নাছের, কাকলি প্রকাশনীর নাসির আহমেদ সেলিম এবং নুহাশ পল্লীর তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে মিলাদ মাহফিল শেষে এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিনটি স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলা সাহিত্যে এক যুগান্তকারী شخصية হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।








