ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে একটি দল: সালাহউদ্দিন

বিকল্প রাজনীতির মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে একটি দল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একটি পদযাত্রার সময় বলেন, ‘‘যে দলটি একসময় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল এবং জনগণের অনুভূতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছে, তারা এখন আবারও গোলমেলে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সুবিধা নিয়েছে। আমি তাদের নাম প্রকাশ করছি না, আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন আমি কার বিষয় বলছি।’’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এই সমাবেশে সালাহউদ্দিন আরও বলেন, দেশের সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা চালু এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই করাসহ কিছু দাবি পেশ করার পেছনে রয়েছে নেতিবাচক উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, ‘‘যে দলগুলো পিআর পদ্ধতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অগ্রগতি আগে চায়, তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।’’

সালাহউদ্দিন সরাসরি কোনো দলের নাম না উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এক দল আছে যা চল্লিশ জন নির্বাচনী বছর ধরে নির্বাচনী প্রতীক হাতপাখা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে, কিন্তু এখন তারা পিআর ব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচনের দাবি উঠিয়েছে।’’

অন্যদিকে, জামায়াতের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আরো একটি দল রয়েছে, যারা সবসময় বিভ্রান্তিকর রাজনীতিতে লিপ্ত থাকে এবং তারা পূর্ববতী দলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।’’

তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ পিআর ব্যবস্থাকে বুঝতে পারে না এবং সেটি চানও না। একজন এমপি যখন নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে, তখন তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পারেন, তাদের সমস্যা শুনে কাজ করেন এবং সংসদে আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু পিআর ব্যবস্থায় প্রার্থী ছাড়া অন্য এলাকা থেকে কাউকে এমপি হিসেবে পাওয়া যায়, যা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘আদালতের রায়ের পর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল হয়েছে এবং তাদের দক্ষিণ তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস এই সরকারই একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন। তাদের কাজ হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করানো, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে তাদের কোনো অধিকার নেই।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘তাই যারা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগেই আয়োজনের দাবি করছেন, তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে জাতীয় নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন।’’