ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান শেখ বশিরউদ্দীনকে অব্যাহতি

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ থেকে শেখ বশিরউদ্দীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দিয়েছেন সরকার। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিমান-১ উপশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হয়। শেখ বশিরউদ্দীন এই সংস্থার চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে চলাকালে তাঁর এই পদত্যাগ ও অব্যাহতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাকিলা পারভীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, সরকার বাংলাদেশ বিমান (বাংলাদেশ বিমান অর্ডার, ১৯৭২ পুনর্বহাল ও সংশোধন আইন, ২০২৩)-এর ৩০ (সি) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেখ বশিরউদ্দীন তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি অর্জন করেছেন। মূলত, তাঁর আবেদনপত্রের প্রেক্ষিতে সরকার এই আদেশ জারি করেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শেখ বশিরউদ্দীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যেতে নিজেই কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সেই দিনের মধ্যে তার পদত্যাগ অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তিনি গত বছরের ২৬ আগস্ট নির্ধারিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়この航空 সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। সাবেক চেয়ারম্যান মুয়ীদ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এই দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেখ বশিরউদ্দীনের এই অব্যাহতি সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই অংশ মনে করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই বিমান কেড়ে নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও শীর্ষ পদে এই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে কোথাও পরিবর্তন আনে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।