ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বাংলাদেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের শরণার্থী ও আশ্রয়সূচক আবেদনসমূহে আশ্চর্যজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বছরেই এই সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্নভাবে বেড়েছে। শুধুমাত্র ২০২৪ সালের মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা- ইউএনএইচসিআর এর কাছে ২৮,৪৭৩ জন বাংলাদেশিকে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে।

শুধু শরণার্থী হিসেবে নয়, রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক লক্ষ ৮ হাজার ১৩১ জন বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যার অধিকাংশই ইউরোপ এবং আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোতে করেছেন। এই তথ্য এসেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে।

গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ২৪,১২৬ জন, ২০২২ সালে ২৩,৯৩৫ জন, ২০২১ সালে ২২,৬৭২ জন, আর ২০২০ সালে ১৮,৯৪৮ জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে ইউনাইটেড নেশনস-এ নিবন্ধিত হন। এর পূর্বেও ২০১৯, ২০১৮, এবং ২০১৭ সালে যথাক্রমে ২২,৭৬৬, ২১,০২২, এবং ১৬,৭৮০ জনের মতো বাংলাদেশি শরণার্থীর আবেদন জমা পড়েছে।

রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রেও ২০২৪ সালে এক লক্ষ ৮ হাজার ১৩১ জন আবেদন করেন, যা আগের বছরের ৭৫,৮৬৭ জনের তুলনায় বেশ বড় বৃদ্ধি। এর আগেও ২০২২, ২০২১, ২০২০ এবং ২০১৯ সালে যথাক্রমে ৬১,২৯৮, ৬৫,৪৯৫, ৬৪,৬৩৬ এবং ৬২,৮৬০ জনের মতো আবেদন ছিল।

তবে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই সুযোগসন্ধানী হিসেবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছেন। অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর মত অনুযায়ী, অনেকে অবৈধ পথে ইউরোপে গিয়ে দীর্ঘ সময় অবৈধ অবস্থায় থেকে শরণার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যেমন মিয়ানমার, সিরিয়া কিংবা আফগানিস্তান থেকে আসা ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। অনেকেই অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গিয়ে শরণার্থী পরিচয় নেন, যা ইউরোপের দেশগুলোও জানে।’’

আসিফ মুনীর আরও জানান, ইতালি, ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো অবৈধ অভিবাসীদের গ্রহণ করলেও, প্রকৃতপক্ষে যারা অবৈধ পথে যাচ্ছেন তারা শরণার্থী নন। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর অনেক নেতা-কর্মী এবং সাধারণ নাগরিক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোতে যথেষ্ট সংখ্যক বাংলাদেশি এই সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এই পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণগুলো থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের বাইরে শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি, এর পেছনে নানা সামাজিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই প্রবণতা নজর রাখার এবং নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করার প্রয়োজন এখন আরও বেশি।