ভারত ও ব্রাজিল বিরল ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মৌল নিয়ে সম্পর্ক গভীর করার উদ্দেশ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে খনিজ বাণিজ্য ও খননখাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে স্থিতিশীল সরবরাহশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা।
নয়াদিল্লিতে গত শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা‑র আলোচনার পরে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। দুই নেতা বৈঠকের পর একটি ব্যাপক কৌশলগত রূপরেখা ঘোষণা করেন, যেটিতে ডিজিটাল রূপান্তর, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধান ১৮ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের সরকারি সফর পালন করছেন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে এই চুক্তি সরবরাহশৃঙ্খলা স্থাপন করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতাও বাড়ছে এবং তা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও কৌশলগত সমন্বয়ের প্রতিফলন। মোদি আরও জানান যে, স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে এবং ভারতের সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের ওষুধ সরবরাহ বাড়ানো নিয়ে কাজ করা হবে।
লুলা দা সিলভা বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে মোদির ব্রাজিল সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। তখন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা, শক্তি ও জলবায়ু নীতিনির্ধারণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৌশলগত শিল্প সহযোগিতা—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে নতুন রূপরেখা গৃহীত হয়েছিল। তিনি ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি ও মহাকাশ অনুসন্ধানে অর্জিত অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং বলেন, এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে শিল্প-ভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
আধুনিক প্রযুক্তিতে বিরল খনিজের চাহিদা বেড়েই চলেছে—বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌর প্যানেল, স্মার্টফোন, জেট ইঞ্জিন ও প্রতিরক্ষা প্রশস্তিতে এসব উপাদান অপরিহার্য। বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ভান্ডারের মধ্যে ব্রাজিলের অবস্থান দারুণ শক্তিশালী; তাই তা ভারতের জন্য সম্ভাবনাময় বিকল্প উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমঝোতা স্মারক ভারতের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে ক্রিটিক্যাল মিনারেল 분야ে চীনের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে খনিজের খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৌশলগত উপকরণ উৎপাদনে চীনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই চুক্তি কেবল সরবরাহ নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, শক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত‑ব্রাজিল অংশীদারিত্ব দু’দেশকেই কৌশলগতভাবে লাভদায়ক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে—বিশেষত যখন নবীন প্রযুক্তি এবং ক্লিন এনার্জি以উন্নয়নে বিরল খনিজের ভূমিকাও বাড়ছে।








