অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ‘ঢাকা ফিল্ম ক্লাব’ আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রদর্শনীর প্রথম দিনে দেখানো হয় কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। ১৯৭০ সালে নির্মিত এই ছবিটিকে বাংলা চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক রূপকের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। ছবিটিতে একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের গল্পের মাধ্যমে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের প্রতীকী ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে; নির্মাতা ড্রাকুলা চরিত্রের রূপক ব্যবহার করে শাসনব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা ও জনগণের প্রতিবাদী চেতনাকে সামনে এনেছেন।
চলচ্চিত্রটির আবহ আরও শক্তিশালী হয়েছে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর রচিত অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’-র মাধ্যমে। ছবির শুটিং চলাকালে নির্মাতা জহির রায়হানকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক চলচ্চিত্র’ নির্মাণের অভিযোগে ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হলেও পরে প্রমাণের অভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল ও আনোয়ার হোসেন সহ প্রসিদ্ধ শিল্পীরা।
দ্বিতীয় দিনে, শনিবার, প্রদর্শিত হবে শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘কলমীলতা’ (১৯৮১)। এ চলচ্চিত্রে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পারিবারিক কাহিনীর প্লট ধরে একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন কবরী, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ ও টেলি সামাদসহ অনেকে।
আয়োজকদের কথায়, বাংলা চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কাজ এখনো সীমিত, তাই নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র পৌঁছে দিয়ে ভাষা আন্দোলনের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করাই এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে বিভিন্ন বয়সের দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রদর্শনীকে এক বিশেষ আবহ দিয়েছে এবং ইতিহাস নিয়ে আলোচনা-দরবার গড়ে তুলেছে।
প্রদর্শনী চলাকালীন দর্শকরা মুক্ত প্রবেশাধিকার কাজে লাগিয়ে দুই দিন জুড়ে চলচ্চিত্র দেখায় অংশ নেন এবং ছবিগুলোকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়ক স্মরণীয় কথোপকথন ও প্রতিফলনও দেখা যায়। आयोजকরা ভবিষ্যতেও এমন ধরনের প্রদর্শনী বাড়িয়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যাতে তরুণ সমাজ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক চেতনা সম্পর্কে আরও সচেতন হয়।








