ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহ সংকট কাটাতে অনেক কৃষক अब সূর্যমুখী চাষকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন। কম খরচে ভালো লাভ এবং দ্রুত ফলন হওয়ার কারণে উপকূলীয় বেশ কিছু অঞ্চলের কৃষকদের কাছে সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ বছর পূর্বের তুলনায় বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ শুধু পরিবেশকে সাজাচ্ছে না, পাশাপাশি বহু কৃষকের মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের কৃষক সুবাস মাঝি বলেন, “ভোজ্যতেলের কৃত্রিম বাড়তি দাম দেখে আমরাও নিজেরাই তেল উৎপাদনের কথা ভাবছি। সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং ফলন ভালো—এ কারণে এবারে এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী রোপণ করেছি।”
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, উপকূলীয় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। তিনি বলেন, “সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো যত্ন করলে প্রতি বিঘায় সন্তোষজনক ফলন পাওয়া সম্ভব। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং মাঠস্তরে পরামর্শ দিয়ে তাদের সক্ষম করে তুলছি।”
কৃষি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, সূর্যমুখী বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তাই দেশের ভোজ্যতেল চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি বিস্তৃতভাবে সফল করতে প্রয়োজন সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ, নিষ্কাশন ও সংরক্ষণ সুবিধা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থাপনা।
কৃষকরা বলছেন, সূর্যমুখীর সঙ্গে যদি স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার সংযোগ সৃষ্টি করা যায়, তাহলে তারা শুধু নিজেদের চাহিদা মিটাবেন না—স্থানীয়ভাবে তেল সরবরাহ করেও আয়ের নতুন পথ খুলে দিতে পারবেন।







