কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মহেন্দ্র খাল। এই খালটি ২০ কিলোমিটার এলাকার অধিকাংশ
দখল হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার লাখো মানুষ। বেশি দখল হয়েছে
উপজেলার হাসনাবাদ এলাকায়। এখানে খালের উপর গড়ে উঠেছে ৫ তলা মার্কেটসহ অসংখ্য
অবকাঠামো।
খালটিতে কেউ আবার আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ ধরছেন, কেউ চাষ করছেন মাছ। অবৈধ অবকাঠামো
ভাড়া দিয়ে দখলবাজরা সুবিধা নিচ্ছেন। এতে বৃষ্টি ও বর্ষায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ
জলাবদ্ধতার। এই জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘর, মাছের ঘের এবং ফসলি মাঠ
পানিতে ভেসে যাচ্ছে। খালের অবৈধ স্থাপনা ও বাঁধ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন
নাগরিকরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার শরীফপুর এলাকার ডাকাতিয়া নদী থেকে খালটি উৎপন্ন
হয়েছে। সেটি উপজেলার হাসনাবাদ হয়ে বিপুলাসার এলাকার নদনা খালে মিলিত হয়েছে। খালের
বিভিন্ন এলাকা ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘর ও দোকান গড়ে তোলা হয়েছে।
পড়ুন: কুমিল্লায় বসতঘরের দরজা ভেঙে নারীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৫
স্থানীয় জামাল হোসেন বলেন, উপজেলার অধিকাংশ খাল দখল হয়ে গেছে। ব্যক্তি ও বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানও খাল ভরাট করছে। প্রচলিত বিধান অনুযায়ী নৌকা
ঘাট, হালট, পথঘাট লিজ বা ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। সেটিও নকল কাগজপত্র তৈরি করে লিজ
দেওয়া হচ্ছে।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহি বলেন, এই উপজেলার
জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। এতে ফসল উৎপাদন বিঘ্নিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য কারণ খাল
দখল। খালগুলোর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে আমরা কাজ করছি। আশা করছি সবাই আন্তরিক হলে এই
দখল প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।