ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মাইলস্টোন বিমান বিধ্বস্ত দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি, নিহত ৩৫

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত দুর্ঘটনায় নতুন করে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এই ভয়াবহ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ২৬ জুলাই শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জারিফ ফারহান মারা যান। তিনি মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ ছিলেন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর, প্রায় সোয়া দশটার দিকে, মাসুমা নামের আরেকজন নারীও দগ্ধ অবস্থায় মারা যান। তবে মাসুমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও আমাদের কাছে পাওয়া যায়নি।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন গতকাল শুক্রবার বিকেলে জানিয়েছেন, পাঁচ জন শিক্ষার্থীর চিকিৎসার অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’ ছিল। আজকের মৃত্যুর খবর সেই আশঙ্কার আরও এক দিক নির্দেশ করে।

তবে মৃতদের লাশ এখনও তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় নি। এ নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে মোট ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ দুর্ঘটনা সোমবার দুপুরে ঘটে যখন বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের সামনের অংশে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক বিমান দুর্ঘটনা বলে বিবেচিত হচ্ছে। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু ছিল, যা জাতিকে গভীর শোকমগ্ন করেছে।

অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন আরও বলেন, বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অনেকেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আজ শনিবার থেকে সুস্থ ১৫ জন রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আজকের এই দুঃখজনক খবর দেশের অনেকেই শোকাহত করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তৎপর রয়েছে।