ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের সর্ব বৃহৎ ঘটনা হলো জুলাই অভ্যুত্থান: মনির হায়দার

প্রধান উপদেষ্টা মনির হায়দার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থান। গত ৫৩ বছরে দেশে এতো বড় কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তন আর দেখা যায়নি। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী এ ধরনের ঘটনা বিরল। এটি এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত ছিল, যেখানে সরকার, মন্ত্রীরা, এমপিরা এমনকি মসজিদের ইমাম পর্যন্ত পালিয়ে গিয়েছিলেন।

শনিবার বিকালে গাংনী মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থান ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল উদ্বোধন পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মনির হায়দার এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, এনসিপিসহ অন্যান্য দল থাকবে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ আর থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘এদেশে কখনোই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারবে না। তর্ক-বিতর্ক ও রাজনৈতিক সংঘাত থাকবে, তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা কারো শত্রু নই, আমাদের একমাত্র শত্রু ফ্যাসিবাদ।’’

মনির হায়দার বলেন, এই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, এটি আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশরত্নের শিক্ষা দেয়। ‘‘জুলাই ২৪ আমাদের শিখিয়েছে যে ২০২৪ সালের বাংলাদেশ আগের মতো নয়; রাত আর দিনের মতো পার্থক্য রয়েছে।’’

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাকে আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না। এই আন্দোলনকে আমাদের চলাচলের দিশা করে নিতে হবে এবং সব সময় স্মরণ রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল আলম সোনা এবং ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজক ও গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মনির হায়দার খেলোয়াড়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কিক দিয়ে ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। হাজার হাজার নারী-পুরুষ ফাইনাল খেলাটি উপভোগ করেন এবং দিনটি স্মরণীয় করে তোলেন।