বলিউড মেগাস্টার শাহরুখ খান অভিনীত আসন্ন ছবি ‘কিং’কে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকতেই নতুন এক নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা এক ১৫ মিনিটের ‘ফ্যান এডিট’ বা ‘মিনি কিং’ নামে ভিডিও ক্লিপ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় নির্মাণসংক্রান্ত টিম কটূতভাবে বিব্রত হয়েছে।
অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ওই ক্লিপটিতে শর্ট ক্লিপ, পাপারাজ্জি ফুটেজ এবং সেটের স্থিরচিত্র মিলিয়ে সিনেমার একটি খসড়া কাহিনি গড়া হয়েছে—যা সরাসরি দর্শকদের থিয়েটারে যাওয়ার অভিজ্ঞতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে বিদেশি মিডিয়া ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে। প্রযোজনা পক্ষের মনে করা হচ্ছে, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সিলসিলা সিনেমার রহস্য ও টুইস্টগুলো আগে থেকেই ফাঁস করে দিতে পারে।
আগে থেকেই কয়েকটি দৃশ্য অনলাইনে প্রকাশিত ছিল—কেপটাউনে শুট করা দীপিকা পাড়ুকোন ও শাহরুখের গানের অংশ এবং ক্লাইম্যাক্সের নির্দিষ্ট মুহূর্তের কিছু চিত্র ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়েছে—যার ফলে নির্মাণ টিম মোটেই সন্তুষ্ট নয়। নিরাপত্তা বাড়ানো ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য মুম্বাইয়ের ঘোডবন্দর রোডে চলমান শুটিংয়ে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। জনবহুল এলাকা হওয়ায় গোপনীয়তা রক্ষা কঠিন হলেও বিশেষত অ্যাকশন শুটের সময় সাধারণদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
শুটিং ইউনিটের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারেও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়। এখনও ছবির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আসেনি; প্রায় দুই মাস দৃশ্যধারণ বাকি থাকায় সতর্কতা আরও জোরালো করা হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সব কাজ নিয়ে তারা জুলাইয়ের শেষ নাগাদ পোস্ট-প্রডাকশন শেষ করে বড়দিনে ছবি মুক্তির পরিকল্পনা রাখে।
পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ দর্শকদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যে তারা সেট থেকে ফাঁস হওয়া কোনো ভিডিও বা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার না করে—যাতে সিনেমার পুরো রহস্য ও চমক বড় পর্দায় উপভোগ করার সুযোগ সকলেরই থাকে। তিনি বলেন, ছবির আসল অভিজ্ঞতা থিয়েটারেই মেলে এবং সেট-লিক বা অনির্ধারিত ক্লিপ তা নষ্ট করে।
এই ঘটনাটি বড় বাজেটের ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য এআই প্রযুক্তি থেকে উঠা নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও এআই টুলের সহজলভ্যতা মিলিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে গোপনীয়তা রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে—এবং প্রযোজক-পরিচালক ছাড়াও দর্শকদেরই এ বিষয়ে সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।







