ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মুরগি ও ডিমের দাম কমলেও চালের বাজারে দাম বাড়ছে

কোরবানির ঈদের পর বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে, যা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর। সবজির দামও আগের মতোই স্টেবল রয়েছে। তবে চালের বাজারে উল্লেখযোগ্য উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

গতকাল, শুক্রবার, রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার পরিদর্শন করলে এই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। খুচরায় মোটা চাল যেমন বিআর-২৮ ও পারিজা চাল এখন প্রতি কিলোগ্রামে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু চালের দামের ক্ষেত্রে জিরাশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৮ টাকা, মিনিকেট ৭৬ থেকে ৮০ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।

পুরান ঢাকার নয়াবাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী নিজাম জানিয়েছেন, ঈদের পর থেকে চালের দাম বস্তায় প্রায় ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধানের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অলিগলির ছোট মুদি দোকানগুলোতে চালের দাম কিছুটা বেশি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বংশাল এলাকার মুদি দোকানদার মজিদ মিয়া জানান, ছোট দোকানগুলোতে স্টক ধরে রাখার জন্য বেশি বিনিয়োগ করতে হয়, তাই চালের দাম একটু বেশি রাখা হয়।

দামের এই পরিবর্তনের ফলে চাল ক্রেতারা কিছুটা অস্বস্তিবোধ করলেও, মুরগি, ডিম ও সবজির দাম কমে ক্রেতাদের মধ্যে সান্ত্বনার সৃষ্টি হয়েছে। পেঁয়াজ, আলু ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও কম نرخেই বিক্রি হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগির দাম এক সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে ঈদের আগে দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। ডিমের দামও কমে প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় এসেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পরে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং চাহিদার পতনের কারণে দাম কমেছে।

অন্যদিকে কিছু ক্রেতা জানান, কোরবানি ঈদ শেষে অনেক বাড়িতেই এখনও মাংস থাকা কারণে মুরগি ও ডিমের চাহিদা কমে গেছে। তবে তারা আশঙ্কা করছেন, আগামি দিনগুলোতে চাহিদা বাড়লে মুরগির দাম আবারও বাড়তে পারে।

পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার ও নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও কিছুটা কমে প্রতি কেজি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই তবে বড় ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দাম বেশি থাকে।

সবজির বাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। পুঁইশাক, বেগুন, পেঁপে, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গে ও মিষ্টি কুমড়ার দাম এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ছিল অনেকটাই বেশি। বড় বাজারের তুলনায় ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে দাম আরও কিছুটা কম।