ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ম্যাক্সওয়েলের দুর্দান্ত ১৩ ছক্কায় পূর্ণাঙ্গ সেঞ্চুরি

ইনিংসের প্রথম ১৫ বল খেলার সময় ম্যাক্সওয়েল করেন মাত্র ১১ রান, কোনও বাউন্ডারি ছুঁতে পারেননি। অনেকের ধারণা হয়েছিল, এবারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল হয়তো খুব দ্রুত আউট হয়ে যাবেন কিংবা ১৫ বলেই ৩৫-৪০ রান করে ইনিংস শেষ করবেন। কিন্তু ‘বিগ শো’ খ্যাত এই ব্যাটসম্যান তার দক্ষতা ও ঝড়ো ব্যাটিং দিয়ে পরবর্তীতে দর্শকদের মন ভরিয়ে দেন।

ম্যাক্সওয়েল শেষ ৩৪ বলে ১৩টি ছক্কা এবং ২টি চার হাঁকিয়ে একটি অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি করেন, প্রথম চার ছক্কা যাদের সময় তার ব্যক্তিগত রান ছিল মাত্র ৭৮। এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সে মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) ইতিহাসে নিজের অষ্টম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি, যা ছিল ওয়াশিংটন ফ্রিডম দলের হয়ে।

লস অ্যাঞ্জেলস নাইট রাইডার্সের বিপক্ষেই এ সেঞ্চুরিটি এসেছে বিশেষ মাত্রার, কারণ ইনিংসের শুরুতে ম্যাক্সওয়েল ছিলেন চাপের মধ্যে। যখন দলের রান ১৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৮, তখন ম্যাক্সওয়েলের রান ছিল মাত্র ১৫ বলের মধ্যে ১১। এরপর নিজের সতীর্থ তানভীর সাংহার করা স্পিনার বলের পরের ওভারে ম্যাক্সওয়েল টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের দিকে ধীরে ধীরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। পরে জেসন হোল্ডারের ইনিংসের ২০তম ওভারে তিনি দুই ছক্কা মারেন, যার ফলে দলের রান দাঁড়ায় ২০৮, ৫ উইকেটে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাক্সওয়েল এখন যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ধারক ক্রিস গেইলের ২২টি সেঞ্চুরির পরই রয়েছেন বাবর আজম ১১টি, রাইলি রুশো ও বিরাট কোহলি ৯টি করে, আর ম্যাক্সওয়েলের মত ৮টি সেঞ্চুরি রয়েছে রোহিত শর্মা, মাইকেল ক্লিঙ্গার, ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ, ও জশ বাটলার-এর মত ক্রিকেটারদের।

সেঞ্চুরি করার দিনে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ম্যাক্সওয়েলের মা-বাবা, যা ঐ মুহূর্তটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইনিংস শেষে ম্যাক্সওয়েল বলেছেন, “এটি আমার কাছে একদিকে যেমন আনন্দদায়ক তেমনই অর্থবহ। আমার মা-বাবা এই মুহূর্ত দেখে গর্বিত होंगे, এটা আমার জন্য বিশেষ সবকিছু।” তিনি আরও জানান, ‘শুরুটা হয়েছিল ধীর, কারণ পরিস্থিতি কঠিন ছিল এবং আমাদের ভিন্ন ধরনের ব্যাটিং করতে হয়েছিল। কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম আরও রান দরকার, তখন শট খেলায় নিজের দক্ষতা নিয়েও ঝুঁকি নিয়েছি যা ফলপ্রসূ হয়েছে।’

২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লস অ্যাঞ্জেলস নাইট রাইডার্স ১১ ওভার আগে ৬৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দলটি ৯৫ রানেই অলআউট হয়ে ফ্রিডমের কাছে ১১৩ রানে পরাজিত হয়। ফ্রিডম দলের পক্ষে জ্যাক এডওয়ার্ডস ও মিচেল ওয়েনেস ৩টি করে উইকেট নেন।

ম্যাক্সওয়েলের এই উজ্জ্বল ব্যাটিং শুধু ম্যাচই জিতিয়ে দেয়নি, বরং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় এক অধ্যায়ও সৃষ্টি করেছে।