ঢাকা | শনিবার | ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্র কমিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক: অর্থ উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কহার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শুল্কহার কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে এবং শিগগিরই ফল পাওয়া যাবে।

এই বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী ১ আগস্টের আগে বাণিজ্য উপদেষ্টাসহ একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যাবে। বুধবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ড. সালেহউদ্দিন।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি খুব কম, যা মোট প্রায় সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি ডলারের মধ্যে। তিনি বলেন, ‘শুল্কহার কমানোর ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এখনই বিস্তারিত জানাতে চাইছেন না। গম আমদানির প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, ‘আমরা গমের আমদানি বৈচিত্র্যময় করতে চাই, কারণ রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানিতে অনিশ্চয়তা থাকায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গমের দাম কিছুটা বেশি, তবু গমের প্রোটিন মান ভালো এবং পরিষ্কার থাকায় এ ব্যাপারে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। এতে বাংলাদেশি বাণিজ্য ঘাটতিও কমবে।

আরও বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে বিলাপর্ষদের সাথে আলোচনা করবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। ইউএসটিআর (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি) অফিসের সাথে বৈঠকেও তারা অংশ নেবেন।

লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন উল্লেখ করেন, লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে এখানে তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া সম্ভব নয়, বরং দ্রুত এবং সরাসরি আলোচনা করা জরুরি। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সরাসরি আলোচনায় নিয়ে আসার বিষয়টিও ততটা কার্যকর নয়, কারণ অনেক সময় তারা দরজার বাইরে থেকেই আওয়াজ করে, যা কার্যকর হয় না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের গুরুত্ব স্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ইউএস চেম্বারের সাথে কথোপকথন হয়েছে এবং বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক মনোভাব বজায় রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়, যা আগে ছিল ৩৭ শতাংশ। এই হার ভিয়েতনামের তুলনায় অনেক বেশি, যারা এখনো ২০ শতাংশ শুল্কে পণ্য রপ্তানি করছে যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্প তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি এই শুল্ক বৃদ্ধির কারণ। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।