ঢাকা | শনিবার | ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

রয়টার্স: হামলায় মোজতবার চেহারা বিকৃত, পায়ে গুরুতর আঘাত

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলায় গুরুতর আহত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চেহারা উল্লেখযোগ্যভাবে বিকৃত হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে তিনটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবার মুখে এবং পায়ে আঘাতের ফলে তার শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক। তবে হামলায় তাঁর এক পা ক্ষতিগ্রস্ত না দুই পা—এই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলোর মতে, শারীরিকভাবে মারাত্মক আঘাত পেলেও মোজতবা বর্তমানে আঘাত থেকে ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন এবং মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সজাগ ও সচেতন। মস্কোর একটি সামরিক হাসপাতালে শায়িত থাকা অবস্থায়ও তিনি নিয়মিতভাবে ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অডিও বার্তায় যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশ নিচ্ছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, বিশেষত পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য উচ্চস্তরের বৈঠক এবং চলমান যুদ্ধনীতির দিক নির্ধারণে তাঁর সরাসরি ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে মোজতবার শারীরিক অবস্থাকে নিয়ে বহির্বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে। ৮ মার্চ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তিনি উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিলেও এখনও পর্যন্ত মোজতবার কোনো ছবি, ভিডিও বা সরাসরি অডিও বার্তা জনসমক্ষে প্রকাশ হয়নি। এই দীর্ঘ নিরবতা তাঁর সুস্থতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রয়টার্স ওই তথ্য যাচাই করতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনটিতে ঘটনার পটভূমিও তুলে ধরা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের উৎপত্তিতে রয়েছে ইরান ও পশ্চিমা দেশের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটন নিরবিচ্ছিন্ন একরকম সংলাপ চালালেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে হামলা শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক বিধ্বংসী হামলায় ৩৭ বছরের ক্ষমতাধর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন; সেই হামলায় তাঁর স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মোজতবার স্ত্রীও প্রাণ হারান—ঘটনাটি ইরানি নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা বর্তমানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে মস্কোর একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১২ মার্চ তাকে রুশ সামরিক বিমানে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কো নেওয়া হয়। ইরানের ভবিষ্যত রাজনৈতিক ধারা এবং চলমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই তাঁর শারীরিক সুস্থতার উপর নির্ভর করছে। বিশ্ববাসী, রাষ্ট্রনেতারা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তিনি কখন হাসপাতাল থেকে ফিরে জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন এবং ইরানের ভঙ্গুর নেতৃত্ব কিভাবে সামলাবেন। সব মিলিয়ে মোজতবা খামেনির বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।