যে বাতাস কিছুক্ষণ আগে স্নিগ্ধতার চাদর ধরে রেখেছিল চারপাশে, হঠাৎই তা ভারি হয়ে উঠল এক পৈশাচিক উন্মাদনায়। নিষ্প্রাণ বাতাস যেন অতিসহসে জীবন্ত হয়ে কেঁদে উঠল এক মরণোন্মুখ লাশের শেষ আকুতিতে। কিন্তু ঘাতকের মন তখনো বিকৃত উল্লাসে প্লাবিত, তার পাথুরে চোখে তখনো ঝলসে উঠছে নির্দয়তা। তার ধারালো অস্ত্রের ডগায় ঝরছে তাজা, উষ্ণ রক্ত। ঠিক তখনই, দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসছে মায়ের ডাক—মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য। তবে মা জানেন না, ভেতরে তখনই নির্বিচারে পৈশাচিকতার চিত্র রচিত হচ্ছে, এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের। চারপাশের আলো যেন এই নির্মমতার সাক্ষী হয়ে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে, ভয়ে ম্লান হয়ে আসছে। আছিয়া, লামিয়া ও রামিসা—নિશ্চিন্ত ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুরা একের পর এক ছিঁড়ে নেওয়া হচ্ছে এই নরপিশাচদের হাতে। যে সকাল ছিল শিশুর হাসিতেও আলোর খেলা, আজ সেই সকালই রূপ নিয়েছে বেদনার কালরাতে, লাশের মিছিলে। চারদিকে ভেসে যাচ্ছে শিশুর আর্তচিৎকার, আকাশ যেন ফেটে পড়ে নিষ্প্রাণ বাতাসের অশান্তিতে, তবে হৃদয় গলে না সেই ঘাতকের।
আট বছর বয়সী রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা তার ঘর থেকে বের হওয়ার পরই তার দুঃখিনী মা স্বপ্না আক্তার কৌশলে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর ধর্ষণের পরে সোহেল রানা শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করেন। দ্রুত ওই সময়, রামিসার মা দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন, কিন্তু ভীত সন্ত্রস্ত সোহেল শীঘ্রই তার নিজেকে লুকিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়। এমন নৃশংসতার সময় স্বপ্না একই রুমে ছিলেন।
ঘটনার তখনই পরিবারের সদস্যরা শিশু রামিসার জন্যে খোঁজ শুরু করেন। পরে তার জুতার সন্ধানে যায় তারা, কিন্তু দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় প্রবেশ করে। তখন দেখা যায়, মৃত্যুপর্ব রক্তাক্ত, মাথাখোঁয়া, বালতিতে রাখা মাথা। পালানোর চেষ্টায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এই বর্বর হামলার দায়ে পল্লবী থানায় মামলা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি: বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটায় একটি ভবনে ঘটেছে এমন একটি ঘটনা, যেখানে তিন বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাসপাতালের ওসিসিতে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছে, পুলিশ অভিযুক্তকে ধরার জন্য চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই সময়ে, ৮ বছরের আছিয়া নামের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে এমন এক নির্মম ঘটনার চাপ এসেছে। এই শিশু র্দীঘ দিন জীবন সংগ্রাম করে মারা গেছে। এরফলে পরিবারের মানসিক ক্ষতি ও চাপ বেড়েই চলছে। বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান, তবে জল্পনা-কল্পনা ও দীর্ঘসূত্রিতা এই মামলার প্রক্রিয়াকে আরো ধীর করে দিচ্ছে।
নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর রাজশাহীর দুর্গাপুরে শিশু হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার: হাসপাতালে শরীরে ছোট ছোট আঘাতের চিহ্ন, পেটের ফোলা ও হাতের আঘাতের আলামত রয়েছে। পরিবারের সন্দেহে আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হচ্ছে।
আর একটি দুঃখজনক ঘটনা হলো, সিরাজদিখানে ১০ বছর বয়সী শিশুই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে, ওসঙ্গে মামার জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে লামিয়াকে ভুট্টাক্ষেতে পাওয়া যায়, জড়িত থাকার অভিযোগে একজন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। পরিবার ঘটনার স্বাক্ষ্য দেয়।
চট্টগ্রামে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ২৬ মার্চ, গুদামে লাশ পাওয়া যায়, ছবি ফুটে ওঠে পাশের সিসিটিভিতে। অভিযুক্ত ফয়সাল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
রাজধানীর বাড্ডায় ৩ বছরের এক শিশুকে হত্যা: তার বাবা ও চাচা যৌথ অবদানে শিশুটিকে হত্যা করেন। এক্ষেত্রে, গত এক বছরে হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
মাদকাসক্তের কারণে শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে: মাদকাসক্ত বাবার হাতে সন্তান মারা যাচ্ছে, প্রতিবেশী ও পরিবারের অগোচরে ক্ষতি চলছেই। শিশু হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায়, শিশু নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
অতীতের মতোই, শিশু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা নিত্যদিনের গল্পে পরিণত হয়েছে, যা সমাজের কলঙ্কস্থানের মধ্যে অন্যতম। সমাজ ও বিচার ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে এই অন্ধকার চিরকাল ধরে থাকবে।








