আসন্ন ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী—বাজেটে নয়, গল্পে নারীর কাহিনীকে সামনে রেখে। গত শনিবার ও রবিবার তিনি পরপর দুইটি পোস্টার প্রকাশ করে তাঁর নতুন ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন; ছবির শিরোনাম ‘প্রেশার কুকার’। প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত চার নারী অভিনেত্রী: শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত ও স্নিগ্ধা চৌধুরী। ঢালিউডে নায়ক কেন্দ্রিক ছবির আধিক্য থাকা সত্ত্বেও রাফী diesmal (এবার) এক সম্পূর্ণ নারীকেন্দ্রিক গল্প উপস্থাপনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
চলচিত্রটির মূলপট ঢাকা শহরের পটভূমিতে আবর্তিত—নগরজীবনের ভিড়ে থাকা নারীদের দৈনন্দিন সীমাবদ্ধতা, অদৃশ্য সংগ্রাম ও মনের চাপই এখানে ভিরে উঠে। নির্মাতা চান, শহরের তীব্র রিদমে যে নীরব আর্তনাদ জমে থাকে তা রূপান্তরিত হয় এক বিস্ফোরক বাস্তবে; তাই তিনি ঢাকা-কে নিজের ভাষায় একটি ‘প্রেশার কুকার’ হিসেবে তুলনা করেছেন—যেখানে চাপ বাড়লে সব কিছুই বেরিয়ে আসে। ছবিতে নারী চরিত্রগুলোর আভ্যন্তরীণ কষ্ট, সামাজিক বাধা এবং তাদের সহ্যসীমা ছাড়ালে যে চূড়ান্ত পরিণতি আসে, সেটাই প্রধান উপজীব্য।
প্রকাশিত পোস্টারগুলোতে অভিনেত্রীদের পোশাক-আচরণে খাঁটি আভিজাত্যের ছাপ আছে, তবে তাদের চোখ-মুখে ফুটে ওঠা রহস্য সেটিকে আরও মুগ্ধকর করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের অনেকেই পোস্টারের লুক নিয়ে বলিউডের আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘হীরামান্ডি’র সাজসজ্জার সঙ্গে মিল দেখেছেন। চার নায়িকা-ই কেন্দ্রীয়ভূমিকা হওয়ায় এই প্রচারণা ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। কোনো একটি প্রধান পুরুষ চরিত্রের উপর নির্ভর না করে এমন বড় প্রজেক্ট নেওয়া ঢালিউডের বাণিজ্যিক ধারায় এক সাহসিকতাপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছবিটা যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও রায়হান রাফী, এবং এটি কানন ফিল্মস ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে মুক্তি পাবে। চিত্রনাট্য কাজ শেষ; বর্তমানে অন্যান্য কারিগরি প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে একযোগে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই ভিন্নধর্মী ছবি। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, ‘প্রেশার কুকার’ ঢালিউডে নারীকেন্দ্রিক গল্পের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারবে—বক্সঅফিসে এর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








