ঢাকা | মঙ্গলবার | ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের অকাল মৃত্যু, পরিবারে শোক ও তদন্তের দাবি

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসী শোকের মাতম করেছেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য সরকারের কাছে তদন্ত দাবি জানিয়েছেন।

সাদিকের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি, কোথায় চলে গেলি তুই? আমার সোনার ছেলে আর ফিরে আসবে না—আমি এটা মেনে নিতে পারছি না।” তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সাদিক তার বাবার কাছে ফোন করে পাঁচ হাজার টাকা চাইছিল। তিন দিন আগে সাদিক তার মাকে ফোনে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বাড়িতে আসবেন। এখন ছেলে না থাকার ব্যথা তিনি ভোগ করছেন এবং ছেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে সরকারী তদন্তের দাবি তুলেছেন।

সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি মেজো সন্তান ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি হিসেবে তিনি পানিতে নিখোঁজ ও ডুবে যান ব্যক্তিদের উদ্ধার করতেন এবং তার দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ফায়ার সার্ভিস থেকে রাষ্ট্রীয় পদকও পেয়েছিলেন। তবে তিনি ক্রীড়ারও সক্রিয়—চমৎকার গোলরক্ষক হিসেবে গোপালন্দ ফুডবল একাডেমিসহ এলাকার নানা ফুটবল দলে দায়িত্ব পালন করতেন। একাডেমির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন সাদিককে ‘নম্র, ভদ্র ও ভালো ছেলে’ হিসেবে স্মরণ করেছেন এবং তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করার সময় সাদিক স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন। প্রায় আট ঘণ্টা পর সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জের কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুম্মার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাদিকের মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করে সন্ধ্যার পর তার স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর পেছনে এখনো অনড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। তারা দ্রুত ও প্রকৃত তদন্ত করে ঘটনাটি স্পষ্ট করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ঠদের তৎপরতা ও তদন্তের ফলাফল কি হবে, তা এখন আশা ও উদ্বেগের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।