ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রিজভী: হাসিনার আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ডাকাতদের আড্ডা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আগে যখন আমরা নৌকায় অনেক দূর যেতাম, মাঝি বলত চুপ থাকেন, ওটাই ডাকাতদের গ্রাম। হাসিনার আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও ছিল ডাকাতদের গ্রাম।’ তিনি আরো বলেন, তখন আমরা অনেক ভয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেরোতাম।

রুজভী এই বিষয়ে মঙ্গলবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে ছাত্রদল আয়োজিত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা প্রকাশ করেন।

রিজভী বলেন, ‘মোমবাতি প্রজ্বলন আগামী দিনের গণতন্ত্রের পদযাত্রার সূচনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণতন্ত্র এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার মঞ্চ। এখানে দাঁড়িয়ে আমি ভেবেছি ৫২ এবং ৬৯ সালের ঐতিহাসিক সময়গুলো, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়াত শান্তির সুবাতাস।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যদি বাঁধা দিই সব বন্ধ হয়ে যাবে, আমরা সবকিছু দিয়ে ছাত্রদের স্তব্ধ করে দেব। কিন্তু এত বাধার পরও ছাত্রদের গণতন্ত্রের সংগ্রাম তাদের থামাতে পারেনি। আলোক প্রজ্বলনের মাধ্যমে আমাদের ৩৬ দিনের কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন হলো।’

রিজভী আরও জানান, ‘শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনীর হাতে ছাত্রদলের নানাভাবের নেতাকর্মী গুম, হত্যার শিকার হয়েছেন। ৮০-৯০ দশকে যেভাবে তারা ভূমিকা রেখেছে, তেমন ভূমিকা বর্তমান গণঅভ্যুত্থানেও নিয়েছে। এই সংগ্রাম বাস্তবায়নের পথে আরও বাধা আসবে, কিন্তু আমরা গণতন্ত্রের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে এগিয়ে যাব।’

কর্মসূচিতে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘জুলাই মাসের শুরুতে ছাত্রদলের এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ। জুলাই আন্দোলন একদিনে হয়নি, হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছেন। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আসাদের রক্তের ফলাফল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সফল হয়েছিল। আজ আমরা খুনি হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদ ওয়াসিম এবং সাঈদের রক্ত অবশ্যই বৃথা যাবে না।’

তিনি আরো কন্ঠ দিয়েছিলেন, ‘বিএনপি আল্লাহর রহমতে ক্ষমতায় আসবে এবং তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করবেন। ইনশাআল্লাহ কিছুদিনের মধ্যে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন শুরু হয়েছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের প্রারম্ভে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাজপথে একক ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদল সবচেয়ে বেশি নেতৃত্ব দিয়েছে। ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। একক ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন, আমরা তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলব না।’

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির যোগ করেছেন, ‘পনেরো বছর ধরে বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ বিরাজ করেছিল তার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ নানা জাতীয়তাবাদী সংগঠন অংশ নিয়েছিল। ফ্যাসিবাদের আমলে তরুণ সমাজ মতপ্রকাশ করতে পারেনি, অথচ সেই তরুণরাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে।’

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার চার মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।