ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রূপগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ী ও অপকর্মের হোতা আ’লীগ নেতা মোতালিব গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক থেকে কোটিপতি হয়ে যাওয়া এবং মাদকসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে স্থানীয় আ’লীগ নেতা মোতালিবকে র‌্যাব-১ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতবেলা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দাউদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোতালিব রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িয়ে রয়েছে।

মোতালিব ও তার সহযোগী নেওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা জোরপূর্বক প্রায় ২০ বিঘা কৃষিজমিকে বালু ভরাট করে শতাধিক ভুয়া দলিল তৈরি করেছে। যারা প্রতিবাদ করে তাদের হামলা, মামলা, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন এবং কিশোর গ্যাং ব্যবহার করে প্রতিহত করার কাজ তারা করে থাকেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মোতালিব প্রায় এক দশক আগে এক প্রভাবশালী পরিবারের গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছেন, মোতালিবের নারী কেলেঙ্কারি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি প্রায় দুই বছর ধরে আলাদা আছেন। সম্প্রতি যমুনা ব্যাংকের এক নারী কর্মচারীর সঙ্গে তার কক্সবাজার ভ্রমণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করে।

ছাত্র আন্দোলন দমনে কাঞ্চন সেতুর কাছে লাঠিচার্জ ও গুলি চালানোর অভিযোগও মোতালিবের বিরুদ্ধে রয়েছে।

রূপগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ অক্টোবর মোতালিব ও তার অনুসারীরা অস্ত্র এবং ককটেল নিয়ে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করেছে। এসময় ককটেল বিস্ফোরণ এবং ফাঁকা গুলি চালিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম জানান, মোতালিবকে র‌্যাব-১ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আজ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

থানা পুলিশ জানায়, রিমান্ডে মোতালিব থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বিস্ফোরকের উৎস অনুসন্ধান, পলাতক আসামিদের খোঁজ এবং সংঘটিত ঘটনার গোপন তথ্য উদঘাটনে কাজ করবেন।