ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রূপগঞ্জে চায়না খলশে মাছের বিস্তার, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

রূপগঞ্জের বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে এক ধরনের বিশেষ মাছ, যা স্থানীয়ভাবে হাইব্রিড খলশে বা চায়না খলশে নামে পরিচিত। এই মাছটি খলিশা মাছের মতো দেখতে হলেও এর আকার কিছুটা বড়। দামে সস্তা হওয়ার কারণে নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে এর খেলা জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে এর বংশবিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মৎস্য পরিষ্কার ও অন্যান্য মাছের জন্য এটি এক বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই মাছটি মূলত অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে ছড়িয়েছে। এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন জলাশয় ও পুকুরে অন্যান্য মাছের বসবাস সংকটে পড়তে পারে। ফলে ঐতিহ্যবাহী মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মাছের বিপরীতে এ নতুন ধরনের মাছের আধিপত্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের মাছের প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে বিপন্ন করতে পারে।

রূপগঞ্জের গাউছিয়া বাজারে মাছের আড়তে দেখা গেছে, এই মাছের স্থানীয় নাম ‘স্নেকস্কিন গুরামি’। পাইকারি দামে এক কেজির জন্য দামের হার ৭৫ থেকে ৯০ টাকা। আড়তদাররা বলছেন, বিভিন্ন জলাশয়ে এর সংক্রামক বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং দ্রুত বংশবিস্তার করছে। এর ফলে অন্য মাছের জন্য স্থান সংকুলান কমে যাচ্ছে।

আড়তদার রিয়াজ মিয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে এই মাছের দেখা মিলছে। এর ফলে দেশের প্রাকৃতিক মাছের সংরক্ষণ ও বংশবিস্তার সমস্যা বাড়ছে। তিনি জানান, এই মাছের চাষ বা পরিবহন নিষিদ্ধ করা উচিত, যাতে দেশের মাছের প্রাকৃতিক প্রজাতিগুলি নিরাপদ থাকে।

স্থানীয় মাছ বিক্রেতা রতন সরকার বলেন, পুকুর, খাল ও ডোবা জলাশয়ে এ মাছের প্রচুর উপস্থিতি দেখে সহজে কেনা-বেচা হয়। এটি বাজারে সবচেয়ে সস্তা মাছ, তাই নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে এর চাহিদা অনেক। বিশেষ করে শিশুদের জন্যও এ মাছ বেশ পছন্দের।

কৌশলে এই মাছের বিস্তার বেড়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ গোপাল মনে করেন, ২০২৪ সালের পরে জলাশয় ও ধানের মাঠেও এর উপস্থিতি অনেক বেড়েছে।

অন্যদিকে, মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই মাছটি খাদ্য হিসেবে বিষাক্ত নয় এবং তেলাপিয়া মাছের মতো। তিনি আরও যোগ করেন, এটি অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অন্য মাছের জন্য এটি একটি বড় হুমকি, তাই এর চাষ ও পরিবহন বন্ধ করা আবশ্যক।

রূপগঞ্জের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, হঠাৎ করে এই মাছের উপস্থিতি লক্ষণীয় বেড়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, কারণ এটি দেশের মাছের জন্য অন্য প্রজাতির জন্য হুমকি রূপে দেখা দিচ্ছে।