ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খানের অ্যাকশন থ্রিলার ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’-এর প্রচারণায় নতুন ঝড় উঠেছে। গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে ছবিটির তৃতীয় পোস্টার, যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দর্শক ও নেটিজেনদের মধ্যে বিপুল কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের দুর্দান্ত — এবং রহস্যময় — খলনায়কের উপস্থিতি সবাইকে চমকে দিয়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, দিব্যেন্দু এখানে শাকিব খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর ভূমিকায় দর্শকদের সামনে আসবেন।
পোস্টারে দিব্যেন্দুকে ‘আফগান পাঠান’ রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। চেহারার এক পাশে জমাট রক্ত, তীক্ষ্ণ ও শীতল দৃষ্টিভঙ্গি—এই সমন্বয় একটি ভীতি-উদ্রেককারী, রহস্যময় চরিত্রের প্রস্তাব রাখে। পোস্টারের উপরের অংশে বড় অক্ষরে লেখা আছে: ‘আর মাত্র ১৩ দিন বাকি’, যা মুক্তির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, এই লুকটি শ্রোতাদের জন্য এক ‘রহস্যময় উপস্থিতি’ এবং তিনি আশা করছেন ‘প্রিন্স’ বাংলা সিনেমার প্রচলিত ধারাকে টেনে এনে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই ভারতীয় ওয়েব সিরিজ-টিভি দর্শকদের মধ্যে বহুল পরিচিত মুখ। ‘মির্জাপুর’-এ তাঁর শক্তিশালী অভিনয় তাকে ব্যাপক পরিচিতি দিয়েছে; এর পাশাপাশি ‘সেক্রেড গেমস’, ‘জামতারা’ ও ‘দ্য রেলওয়ে মেন’ ইত্যাদি প্রজেক্টেও তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। শাকিবের মতো বড় তারকার বিপরীতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ এক অভিনেতাকে খলচরিত্রে আনার সিদ্ধান্তকে অনেকেই সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে উৎসাহ, অনুমান আর অপেক্ষার মিশেল—কারণ দুই দেশের দুই রকম জনপ্রিয়তাকে একসঙ্গে দেখতে দর্শক আগ্রহী।
ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে রয়েছেন অভিনেত্রী তসনিয়া ফারিণ এবং পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতির্ময় কুণ্ডু। এছাড়া শরীফ সিরাজ, লোকনাথ দে ও মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে সংযুক্ত রয়েছেন। কারিগরি দিক থেকেও প্রজেক্টটি শক্তিশালী: ছবির চিত্রগ্রাহক হিসেবে যুক্ত আছেন বলিউডের পরিচিত নাম অমিত রায়, যিনি ‘অ্যানিম্যাল’ চলচ্চিত্রে কাজের সুবাদে খ্যাত।
সব মিলিয়ে দুই দেশের তারকা কাস্ট, আঁচড়ালো অ্যাকশন এবং গাঢ় নাটকীয়তা মিশিয়ে ‘প্রিন্স’ এবারের ঈদে হলগুলোর পর্দায় নতুন ইতিহাস গড়তে তৈরি। নির্মাতা ও প্রযোজকরা ইতিমধ্যে দর্শকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রত্যাশা পেয়েছেন, আর এখন প্রশ্ন—মুক্তি হলে কেউ কি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া দিতে পারবে? পরের ১৩ দিন অপেক্ষা সেই উত্তরের প্রতীক্ষায় কাটবে।







