শিক্ষাখাতকে সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি সুশিক্ষিত, দক্ষ ও জাতি গঠনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তার নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি সরকারের এই লক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বরং এটি হয়ে উঠুক আরও কার্যকর, প্রয়োগশীল ও কর্মমুখী শক্তি। সেই উদ্দেশ্যে কোন ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতা বা দ্বিধা প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার বক্তৃতায় শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জানান, তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সকল স্তরে কঠোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি মনে করেন, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো ব্যতীত শিক্ষার মানের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা এর সুফল ভোগ করতে পারে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য আরও যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রচলিত বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বৈশ্বিক চাহিদা সম্পন্ন অন্যান্য ভাষা শেখানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে দেশের তরুণ প্রজন্ম বিদেশে আরও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি, কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
মানসিক ও শারীরিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ জানান, শুধু ক্লাসরুমে পড়াশোনা নয়, প্রতিটি শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলা মাধ্যমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি মন্তব্য করেন, শারীরিক সুস্থতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
নতুন সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক অভাবনীয় ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, যারা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়তার আশ্বাস দেন। মোটকথা, নতুন সরকারের শুরতেই ঘোষণা দেওয়া হলো, শিক্ষা খাতে একটি নতুন গতির সূচনা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।








