শেরপুরে কৃষকদের মধ্যে ষাড়ের মই দৌড় খেলা দিন দিন আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও নানা কারণে এই ঐতিহ্যবাহী খেলা হারিয়ে যেতে বসেছিল, শুকনো মৌসুমে জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শেরপুর সদরের চরশেরপুর নাগপাড়ায় এই মোরগের মতো উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে।
ষাড়ের মই দৌড় শেরপুর জেলার কৃষকদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি খেলা। শুকনো মৌসুমে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঝেমধ্যেই আয়োজন করা হয় এই প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার স্থানগুলোতে হাজার হাজার বয়স্ক, যুবক, শিশু-কিশোর এবং সর্বস্তরের মানুষ জমায়েত হয় এই আনন্দঘন খেলা দেখতে।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি অনেকের কাছে এখনো নতুন হলেও সেটি দেখে তারা মুগ্ধ ও আনন্দিত হয়। যেখানে যেখানে ষাড়ের মই দৌড়ের আয়োজন হয়, সেখানেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯ জানুয়ারি শেরপুর সদরের চরশেরপুর নাগপাড়া এলাকায় এমন একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্থানীয়রা।
একটি মইয়ে চারটি করে ষাড় থাকে এবং প্রতিযোগিতায় দুটি মই দৌড় দেয়। অনেক সময় নির্ধারিত দৌড়ের বাইরে চলে গেলে ওই মই আউট বলে গণ্য হয়। প্রতিযোগিতায় দুইজন মইয়াল এবং তিনজন ধরালসহ একটি টিম থাকে। রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ষাড়গুলো দৌড় শুরু করে এবং বিজয়ী দল উৎসবমুখর হওয়া দর্শকদের বরণ পায়। চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর উল্লাসে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। খেলা পরিচালনাকারী মইয়ালরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খুশি হন।
এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ষাড়ের দৌড় খেলাকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে গুরুত্ব বাড়াতে নাগপাড়ায় প্রথমবারের মতো এই খেলার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় মানুষের আগ্রহ দেখে আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এই ধরনের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আটটি মই দৌড় দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ঢাকা থেকে আসা জামালপুর জেলার ইসলামপুরের চন্দনপুরের ‘হাবু বেপারি’ দল চ্যাম্পিয়ন হয়।
খেলাব শেষ হওয়ার পর বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সাইম, শিক্ষক আসমত আলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক আসমত আলী জানিয়েছেন, “এই খেলা প্রতি বছর আয়োজনের মাধ্যমে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের মধ্যে ঐতিহ্যের ধারাকে বাঁচিয়ে রাখব। ইহার প্রতি তাদের আগ্রহ দেখে আমরা খুবই উৎসাহিত।”







