ঢাকা | রবিবার | ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে বেলজিয়াম; অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে শেষ-ষোলোর টিকিট

সিয়াটলে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল বেলজিয়াম। ম্যাচে তারা এক সময় ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন করে যোগ করা সময়ের নাটকীয় পেনাল্টি থেকে জয় নিশ্চিত করে।

প্রতিপক্ষের ওপর ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য কায়েম করে রাখে সেনেগাল। তিরিশটি মিনিটের খেলার মধ্যে তারা কয়েকবার-বেটার আক্রমণ খুলে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে পরীক্ষা করে। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আসে ১৩তম মিনিটে, যখন ইসমাইলা সারের শট পোস্টে লেগে ফিরে যায়। ২৫তম মিনিটে সেই আক্রমণই ফল বয়ে আনে — সাদিও মানের নিখুঁত ক্রস থেকে হাবিব দিয়ারা মাথায়িয়ে বল জালে জড়াতে সক্ষম হন এবং সেনেগাল ১-০ এগিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সেনেগাল। ৫১ মিনিটে মুসা নিয়াখাতের লম্ব থ্রু বল থেকে ইসমাইলা সার দ্রুত গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে সঠিক ফিনিশিং করে গোল করেন। ২-০ এগিয়ে থেকে মনে হচ্ছিল ম্যাচটি সেনেগালের দখলে, তবে বেলজিয়ামের প্রত্যাবর্তন এখানেই শুরু হয়।

ম্যাচ টেনে আনেন বেলজিয়াম। ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকু একটি গোল করে ব্যবধান কমান এবং তিন মিনিটের মাথায়—৮৯ মিনিটে—ইউরি টিলেমান্সের শানদার হেডে স্কোর ২-২তে পৌঁছে যায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অবস্থান সমতা থাকায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে চলে যায়।

অতিরিক্ত সময়ের যোগের মুহূর্তে নাটক ঘটে। সেনেগালের ডিফেন্ডার লামিনে কামারা ডি-বক্সের ভিতরে ইউরি টিলেমান্সকে ফাউল করলে রেফারি প্রথমে কিছুই না দেখালেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে পেনাল্টি ঘোষণা করা হয়। ১২৫তম মিনিটে টিলেমান্স ঠাণ্ডা মাথায় স্পট-কিক জালে পাঠায় এবং বেলজিয়ামের ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে।

বেলজিয়ামের এই অবিশ্বাস্য পালটা প্রতিহিংসা ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় একটি প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ হয়ে রইল। অন্য দিকে নিরাশাজনকভাবে শেষ মুহূর্তের ভুলের ফলে বিদায় নিতে হয় সেনেগালকে, যাদের পুরো ম্যাচজুড়ে উজ্জ্বল খেলা দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল। নকআউট পরের ম্যাচে বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়ার জয়ী দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।