ঢাকা | শুক্রবার | ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শ্রীলংকার উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবি, মোদির কূটনীতিতে নতুন চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই শ্রীলংকার উপকূলের কাছে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ভারতের কৌশলগত অবস্থাকে নতুনভাবে উস্কে দিয়েছে—এমনই মন্তব্য করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বিশ্লেষকরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক চেতনা কুমার এবং অ্যাডাম ফারার লিখেছেন, এই ঘটনার ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতির উপর ঘরোয়া চাপ বাড়তে পারে।

ব্লুমবার্গের বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি জাহাজে হামলার দৃশ্যটি একটি অস্বস্তিকর দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে — যুদ্ধের এ প্রেক্ষাপটে ভারত ও শ্রীলঙ্কা উভয় সরকারের ওপরই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। তবুও তারা এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন না।

ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব হামলা চালিয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ভারতের স্পষ্টভাবে কটাক্ষ বা নিন্দা জানানোর অভাব মোদি সরকারকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে—বিশ্লেষকরা বলছেন নয়াদিল্লি এখন জ্বালানি, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের মতো স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জটিল ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।

একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক নানা কারণে পরীক্ষার মুখে পড়েছে—বাণিজ্য নিয়ে কঠোর শুল্ক আলোচনা এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের সঙ্গে করা কিছু চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কূটনৈতিক ভাঁজ বাড়িয়েছে।

ঘটনাটি শ্রীলংকার অর্থনৈতিক আনুষ্ঠানিক জোনের কাছে ঘটায় নয়াদিল্লির জন্য কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে; তবু ওই অঞ্চলে নিয়মিত ভারত-শ্রীলঙ্কা যৌথ টহল চলে এবং সেখানে একটি বিদেশি সাবমেরিন উপস্থিতি ভারতের কৌশলগত মহলে উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের ফ্রিগেট আইআরআইএস দেনা গত বুধবার দেশটির উপকূলের কাছে ডুবে যায়। আপাতত ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে; একমাত্র সূত্রে বলা হয়েছে শতাধিক নাবিক নিখোঁজ বা নিহত হতে পারেন।

কিছু মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন ওই মুহূর্তে উপস্থিত ছিল এবং এক পর্যায়ে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছিল—এমন ঘটনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিরল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দাবি সম্পর্কে সরাসরি কতটা দৃঢ় প্রমাণ রয়েছে তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে সতর্কতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতে সফর করেছিল এবং তখন প্রায় ৪০টি দেশের নৌযানের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউতে অংশ নেওয়া ছিল। ঘটনার পর অঞ্চলীয় শক্তিগুলোর কৌশলগত সম্পর্ক এবং নেতৃত্বের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলি ভবিষ্যতে কিভাবে প্রভাবিত হবে, সেটাই এখন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরের মুখ্য বিষয়।