ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরকার টিসিবির জন্য ১৯৭ কোটি টাকায় তেল ও ডাল সংগ্রহ করবে

সরকার টিসিবি কার্ডধারী নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে বড় পরিমাণ তেল ও ডাল সংগ্রহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। cabinet procurement committee (সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি) একটি বৈঠকে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম তেল এবং ২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ খাদ্যপণ্য সংগ্রহের মোট খরচ হবে প্রায় ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩২ টাকা, যা প্রায় ১৯৭ কোটি টাকা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বৈঠকটি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং সভার সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাম তেল আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে আমেরিকার পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে আনা হবে, যার চুক্তির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৯৩২ টাকা। মসুর ডাল স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঢাকায় স্থাপিত ইজ সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ক্রয় করা হবে, যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

উদ্দেশ্য হলো টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যগুলো ভর্তুকি মূল্যেই বিতরণ করা, যাতে নিম্নআয়ের পরিবারের কষ্ট লাঘব পায় এবং বাজারের অস্থিরতার মধ্যে সাধারণ মানুষের সস্তায় পণ্যসামগ্রী নিশ্চিত থাকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বড় মজুত সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তবে ওই বৈঠকে পরিকল্পিত সব প্রস্তাবই উপস্থাপন করা হয়নি। বাপেক্সের বাস্তবায়নাধীন ‘৩টি অনুসন্ধান কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খনন’ প্রকল্পের আওতায় দুটি কূপ খননের প্রস্তাবটি আলোচনায় তোলা হয়নি। একইভাবে সিলেট-১২ নম্বর কূপ (তেল কূপ) খনন এবং স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন হয়নি।

আরো কিছু প্রস্তাব—নেসকো ও বাপবিবোর বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্যাকেজ এবং সিরাজগঞ্জ ও ভেড়ামারা_combined সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুনর্নির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ নির্ধারণ—ও এদিনের সভায় আলোচনার বাইরে ছিল বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্যগুলো টিসিবির ক্লিয়ারিং ও বিতরণ ব্যবস্থায় আসার আশা করা হচ্ছে, যা দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে খাবারের নিরাপত্তা জোরদার করবে বলে কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করছেন।