ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরবরাহ সংকটে ময়মনসিংহে সবজির দাম চড়া, কেজি প্রতি ১০–২০ টাকা বৃদ্ধি

ময়মনসিংহে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবেই সবজির সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। রোববার (৩ মে) সকালে নগরীর প্রধান পাইকারি বাজার মেছুয়া ঘুরে জানা গেছে, পণ্যবাহী যানবাহনের আঘাত কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় স্তরেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

সরকারি ও স্থানীয় বাজারদরে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি সাধারণত ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধিই হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উত্থান লক্ষ্য করা গেছে কাঁকরোলের দামে; বর্তমানে তা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৫–২০ টাকা বেশি। পটোলের দাম কেজিতে ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা এবং লতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা ও ঝিঙে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা এবং শসা ৭০ টাকায় মিলছে।

বিশেষ করে সজনে ডাঁটার দর এক পর্যায়ে ওঠে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায়, আর বেগুনের কেজি দাম ছুঁয়ে বসেছে ৮০–৯০ টাকার মধ্যেই। কাঁচামরিচের বাজারেও গত এক সপ্তাহে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে; প্রকারভেদে মরিচের দাম এখন লক্ষ করা যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যেখানে আগে তা অনেক কম ছিল।

অন্যদিকে গাজর ও পেঁপে এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল; এগুলোর কেজি প্রতি দাম আগের মতো প্রায় ৫০ টাকা র정을ায় রয়েছে। পাইকারিরা বলছেন স্থানীয় উৎপাদনকারী এলাকায় থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি না আসায় জোগানের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকায় দাম বাড়ছে।

আড়তদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার-পাঁচ দিনের নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে জমি থেকে সবজি তোলা ও বাজারে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা পণ্য পাঠাতে না পারায় আগের যে দৈনিক সরবরাহ ছিল—প্রায় ২৫ বস্তা—এখন তা মাত্র ২–৩ বস্তায় নেমে এসেছে। সরবরাহের এই সরাসরি পতনই পাইকারি পর্যায়ে মূলত মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে গেছে; পাইকারি মূল্যের ওপরে ব্যবসায়ীরা সাধারণত ১০–২০ টাকা যোগ করে রাখছে। এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের পাতে পড়েছে সবচেয়ে বেশি—নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষগুলো প্রতিদিনের বাজার চালাতে কষ্ট পাচ্ছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে এবং সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হলে আগামি দিনগুলোতেও সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম। ক্রেতারা এখন বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করছেন, আবার ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিককরণ ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেছেন।