ঢাকা | শুক্রবার | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সরিষাবাড়ীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরা বাড়ছে

জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার নদীগুলোর উপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা, ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদীতে অবাধে চলছে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরা। পেশাদার ও অপ্রাতিষ্ঠানিক জেলেরা পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষরা সহজ ও দ্রুত ভাবে বেশি মাছ শিকারে এই অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর ফলে দেশের স্থানীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে এবং নদীর জীববৈচিত্র্যও বিপন্নের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে জানা গেছে, প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে এই তিন নদীতে মাছ ধরার জন্য বৈদ্যুতিক শক ব্যবহারকারী জেলেদের সংখ্যাই বাড়ছে। রাতে প্রায় ১১টা থেকে ভোর ১টার মধ্যে এ পদ্ধতিতে মাছ শিকার হয়। এ জন্য জেলেরা বড় ব্যাটারি নিয়ে নৌকা দিয়ে নদীতে নামে, যেখানে একটি ইনভার্টার যুক্ত করা হয়। এই ইনভার্টার থেকে দুটি তার বের করে একটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়, আর অন্যটি লোহার রডের সাথে যুক্ত। রডের মাথায় বিশেষভাবে তৈরি জালি বাঁধা থাকে, যা মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত হয়। যখন এ রড ও জালি জলচৌর্য দিয়ে মাছের সংস্পর্শে আসে, তখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মাছগুলো ইলেকট্রিক শকের প্রভাবে পানির উপরে ভেসে ওঠে। এ মাছগুলো পরে জাল দিয়ে তুলে নেওয়া হয়।

স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেছেন, এই পদ্ধতিতে মাছ ধরা বন্ধ না হওয়ায় যমুনা, সুবর্ণখালী এবং ঝিনাই নদীতে প্রবাহিত মাছের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে অনেক জেলে মাছ শিকার করে তাদের জীবিকা চালাতে পারছেন না, বরং পেশা ছাড়ার খবরও শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ এখনও অবৈধভাবে এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার চালিয়ে যাচ্ছেন। নদীর প্রাণবৈচিত্র্য ও বর্তমান মাছের বিপুল ক্ষতি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতনজনেরা।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবজানী ভৌমিক বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছি। অবৈধভাবে ব্যবহৃত চায়না জাল ও ইলেকট্রিক শক ব্যবহারের সরঞ্জাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই সমস্যা বন্ধ করতে আরও কঠোর আইন ও আইন প্রয়োগের প্রয়োজন।’