ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরিষাবাড়ীর চরাঞ্চলে মিষ্টি আলুর চাষে রেকর্ড ফলন ও লাভের হাসি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকরা সন্তুষ্টিতে ভরে উঠেছেন। সদ্য কাটা আলুর মাঠে কর্মতৎপর কৃষক ও কৃষাণিরা ঘাম ঝরাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবারের মিষ্টি আলুর ফলন ব্যাপক হয়েছে এবং তদুপরি বাজারেও দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ধারাবর্ষা, বড়বাড়ীয়া, কৈজুরী, কান্দারপাড়া, সৈয়দপুর, বয়সিংহ, ভাটারা, মোহনগঞ্জ, কাশারীপাড়া, পাখাডুবী, ফুলবাড়িয়া, পারপাড়া, গোপীনাথপুর, কৃষ্ণপুর, চর হরিপুর, আওনা ও পোগলদিঘা সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে কৃষকরা মিষ্টি আলুর সফল চাষ করেছেন। খরচ কম হওয়ায় এবং লাভ বেশি থাকায় এখন অনেক কৃষকই এই মিষ্টি আলু চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

কামরাবাদ ও ভাটারা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, সবুজ পাতায় ছেয়ে যাওয়া বিশাল ফসলের মাঠে কৃষকরা কুড়াল দিয়ে মাটি আগলা করছেন, আর নারী ও শিশুরা আলু সংগ্রহ করে এক জায়গায় জমা করছেন। পরে ক্ষেতে বসেই মিষ্টি আলুগুলো ওজন করে বস্তাবন্দি করছেন। আলুর লতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করাও বাড়িতে দেখা যায়।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল হাই, সাদেক আলী ও রাশেদুল ইসলাম জানান, মিষ্টি আলু রোপণের প্রায় ৯০ দিন পর ফলন হয়। এবারে আবহাওয়া এবং পরিচর্যা ভাল হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে মিষ্টি আলুর খুব চাহিদা রয়েছে, তাই পাইকাররা ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে এসব আলু কিনে নিয়ে যান।

চাষি আব্দুল মোতালেব বলেন, তিনি এই মৌসুমে অনেক পতিত জমি ব্যবহার করে প্রায় এক একর জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় তার ১০০ মণের বেশি ফলন হয়েছে। প্রতি মণ আলু তিনি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তাঁর মতে, এত লাভবান ফসল অন্য কোনো ফসল থেকে করা সম্ভব নয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার অনুপ সিংহ জানান, সরিষাবাড়ীতে এ বছর মিষ্টি আলুর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮০ হেক্টর, যেখানে চাষ হয়েছে ৬৭৫ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার থেকেও ৯৫ হেক্টর বেশি। খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা মিষ্টি আলুর চাষে আরও উৎসাহী হয়েছেন। বিশেষ করে এসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।