স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে অভিহিত করে তা পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ‘প্রতারণার দলিল’ আখ্যা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফশিল উদ্ধৃত করে গত বছরের ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’এর আইনি দুর্বলতা ব্যাখ্যা করেন।
সালাহউদ্দিন জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি কী সঙ্গত আইনি অধিকার বা ক্ষমতা বলেপ্রার্থীত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্যত্বের ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন—এ ধরনের কোনো এখতিয়ার তার নেই। এই কাজ করে তিনি শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের জন্য যে ব্যালট দিয়েছে তাতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হওয়ার আলাদা কোনো ব্যালট ছিল না। ভোটাররা সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের মান্দট দিয়েছেন; তারা অস্তিত্বহীন কোনও পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য ভোট দেননি।
বিগত সরকারের জারি করা ওই আদেশটিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’—শুরু থেকেই বাতিল—আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা নেই; সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ সেই ক্ষমতাকে রহিত করে দিয়েছে। সুতরাং এমন একটি আদেশের ভিত্তিতে কোনো বৈধ অধিবেশন আহ্বান বা কোনো কার্যক্রম চালানো যায় না।
সালাহউদ্দিন দাবি করেন, ওই আদেশটি কোনো অধ্যাদেশ নয়, নয়ত আইন; বরং এটি আইনগতভাবে ভ্রান্ত এবং সার্বভৌম সংসদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টাই। তিনি এই প্রক্রিয়াকে একটি প্রতারণার দলিল হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর আইনগত প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।








