আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তপ্রায়। তবু সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের বেরখালি এলাকায় সম্প্রতি এমনই একটি মনোগ্রাহী দৃশ্য দেখা গেছে—মাঠের কাজ সারার পর এক কৃষক মহিষের পিঠে চড়ে ধীরস্থিরভাবে বাড়ির পথে চলেছেন।
বিকেলের সোনাঝরা রোদে সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে যখন তিনি ও তাঁর শান্ত মহিষটি ধীর পদক্ষেপে এগোচ্ছিল, তখন চারপাশ জুড়ে যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি বিরাজ করছিল। পথচারী ও গ্রামের মানুষজনও থেমে দেখছিলেন, এই সাধারণ অভিযোগাতেই অনেকেরই শৈশবের স্মৃতি জেগে উঠেছিল।
স্থানীয়রা বলেন, আজকাল ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারসহ নানা আধুনিক যন্ত্রের কারণে লাঙল-জোয়াল ও গবাদিপশু সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়; তাই এমন দৃশ্য এখন বিরল। এক সময়ে এখানকার প্রায় প্রতিটি ঘরে মহিষ কিংবা গরু থাকত, তারা ধান-কাঠি তুলত, কৃষিজমিতে কাজ করত এবং চলাচলের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার হত। তবু বেরখালির এই দৃশ্য প্রমাণ করে—শত আধুনিকতার মাঝেও গ্রামজীবনের সেই শেকড় আর ঐতিহ্য কতোটা জীবন্তভাবে রয়ে গেছে।
এটি কেবলই এক কৃষকের অদ্ভুত পথচলা নয়; বরং শান্ত-স্নিগ্ধ বাংলার এক ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তসমর্থ প্রতীক, যা দেখতে পেলে অনেকে মুহূর্তের জন্যই অতীতের মেলবন্ধনে হারিয়ে যান।








