ঢাকা | রবিবার | ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সুগন্ধি চাল রপ্তানির মেয়াদ বাড়ল — সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত

সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগের কথা জানায়। মূলত গত ৩১ ডিসেম্বর যে মেয়াদটি শেষ হওয়ার কথা ছিল, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুরোধ এবং অবস্থার পর্যালোচনায় সরকার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

গত বছর এপ্রিলেই এসব প্রতিষ্ঠানকে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল; সেই অনুমতি অনুসারে অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে চাল রপ্তানি করেছে। এবার পুনরায় মেয়াদ বাড়ায় ওই ৬১টি প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমোদিত কোটা অনুযায়ী আবার রপ্তানির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানির শর্ত হিসেবে বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছে। শর্ত মোতাবেক প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য সর্বনিম্ন ১.৬০ মার্কিন ডলার হতে হবে — বর্তমানে ডলার প্রতি ১২২ টাকা ধরে এটিকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রস্তাবিত দাম হিসেবে প্রায় ১৯৫ টাকা করে ধরা হয়েছে। অনুমোদিত পরিমাণের বাইরে কোনো চাল রপ্তানির অনুমতি নেই এবং প্রত্যেক চালান জাহাজে তোলা হওয়ার পর সম্পূর্ণ রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। আরও বলা হয়েছে, এই অনুমোদন অহস্তান্তরযোগ্য; কোনো প্রতিষ্ঠান নিজে রপ্তানি না করে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্যকে দিয়ে এটি করাতে পারবে না।

বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতির অনুযায়ী সাধারণ ভাত রপ্তানি নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ পাওয়া যায়। দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৮–২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদন হলেও গড়ে মাত্র মাত্রার তুলনায় খুব সামান্য অংশ — প্রায় ১০ হাজার টন — মাত্র বিদেশে পাঠানো হয়ে থাকে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাত থেকে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে এ আয়ের ধারা কমে আসে এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে নিয়মিত কিছু পার্টি রপ্তানি হচ্ছে; বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে ১৩০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের চিনিগুঁড়া, কালিজিরা ও কাটারিভোগসহ বিভিন্ন সুগন্ধি চাল পাঠানো হয়।

রপ্তানি প্রক্রিয়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তদারকিতে সম্পন্ন হয়। রপ্তানি সক্রিয় রাখার জন্য খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রপ্তানিকারীরা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না পাওয়া গেলে বাইরে চাল পাঠানো সম্ভব হয় না। মেয়াদ বাড়ায় ৬১টি প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত কোটা অনুসারে পুনরায় সরবরাহ চালিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অংশ নিতে পারবে।