ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আর থাকছে না দলীয় প্রতীক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার থেকে আর দলীয় প্রতীক থাকবে না। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবিত চারটি সংশোধনী আইন অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চালু করা হয় এবং সেই অনুযায়ী আইন সংশোধন হয়। বর্তমান সংস্কার কমিশন বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশে দলীয় প্রতীক প্রদান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০১৫ সালের সিটি কর্পোরেশন আইন, পৌরসভা আইন, উপজেলা পরিষদ আইন ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিলুপ্ত করার প্রস্তাব তুলে ধরেই তা অনুমোদিত হয়। এর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না; বরং ব্যক্তিগত প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনে হানাহানি কমবে এবং প্রার্থীরা তাদের নিজের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হবার সুযোগ পাবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সংশোধনী চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ মাত্র। তবে নির্বাচন কখন হবে তা সম্পূর্ণ জাতীয় ঐকমত্য ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্মতিই নির্ধারণ করবে।

উপদেষ্টা পরিষদের সভার সহায়তায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য পে কমিশন গঠন করা হয়েছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশনের উদ্দেশ্য আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদান করা। কারণ, সর্বশেষ বেতন কাঠামো নির্ধারণ হয়েছিল ২০১৫ সালে, তার পর বিগত এক দশক ধরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনো সমন্বয় করা হয়নি।

শফিকুল আলম আরও জানান, গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনায় তদন্তের জন্য সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, মাইলস্টোন স্কুলে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ব্যাপারে ছড়ানো গুজব প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, এমন শোকবার্তায় সবাইffected, কেউ একে মেনে নিতে পারছে না, তার মধ্যেই গুজব ছড়ানো হচ্ছে যা ফৌজদারি অপরাধ। তাই মিডিয়াকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেন তিনি।

সর্বশেষ, উপদেষ্টা পরিষদে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থনের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।