ঢাকা | শুক্রবার | ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

স্প্লাইসে প্রকাশ পেল আরমীন মুসার ‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’

বাংলাদেশি লোকসঙ্গীত স্পৃহা নিয়ে আরেকটি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ—জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক আরমীন মুসার নতুন স্যাম্পল প্যাক ‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’ বিশ্বখ্যাত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্প্লাইসে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে শতবর্ষী বাউল ধারার আধ্যাত্মিকতা ও আবেগকে আধুনিক প্রযুক্তি ও সাউন্ড প্যালেটে নিয়ে এসে বিশ্বব্যাপী মিউজিক প্রোডিউসারদের জন্য ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি মূলত একটি রয়্যালটি-মুক্ত স্যাম্পল প্যাক — যা ইলেকট্রনিক মিউজিক, চলচ্চিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বা পরীক্ষামূলক কম্পোজিশনে সহজেই ব্যবহার করা যাবে। আরমীন মুসা জানান, বাউল সুরের স্বতন্ত্র কণ্ঠ, লয় ও ভাব—even those rooted in earthy spontaneity—কে সঠিকভাবে ধরে রাখা লক্ষ্যেই এই সংগ্রহ তৈরি করা হয়েছে।

এই উদ্যোগটি ভারতীয় সুরকার ধ্রুব গোয়েলের মিউজিক লেবেল ‘আরহ’‑এর সহযোগিতায় নির্মিত। প্রকল্পের সাউন্ড মিক্সিং করেছেন ইফতেখারুল আলম শুভ, যার কাজের ফলে স্যাম্পলগুলো আন্তর্জাতিক মানের প্রোডাকশনের জন্য প্রস্তুত।

প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কন্ঠ দিয়েছেন প্রখ্যাত বাউলশিল্পী বেবি আখতার ও লোকমান সিদ্দিকী। তাদের কণ্ঠে বাউল ধারার মাটির গন্ধ, ঘ্রাণ এবং স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ পরিষ্কারভাবে শোনা যায়। আরমীন মুসা বলেছেন, বেবি আখতার ও লোকমান সিদ্দিকীর গায়কীই এই প্রজেক্টের প্রাণ; তাদের কণ্ঠের গভীরতা আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মুগ্ধ করবে বলে তিনি আস্থাশীল।

ইতিমধ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রযোজক কিশোন খান বেবি আখতারের সঙ্গে কাজ করে বাউল সুরকে জাজ ও সমসাময়িক ধারায় উপস্থাপন করেছিলেন—আরমীন মুসার এই স্যাম্পল প্যাক সেই ধারাবাহিকতা আরও প্রসারিত করেছে। রয়্যালটি-মুক্ত ভোকালগুলোর মাধ্যমে বিদেশি প্রযোজকরা সহজেই বাংলার লোকসঙ্গীত নিয়ে নতুন ফিউশন তৈরি করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, স্প্লাইসে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্যাম্পল প্যাক; এর আগেই আরমীন ‘সমকালীন বাংলা কোরাস’ শিরোনামের প্রথম বাংলাদেশি প্রজেক্টটি নিয়ে এসেছিলেন। নতুন এই প্রকাশনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে বলে সংগীতাঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন।

সংরক্ষণ এবং আধুনিকীকরণ—দুইটি লক্ষ্যকে সঙ্গে রেখে আরমীন মুসার এই প্রচেষ্টা প্রশংসা পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে ফিউশন ও ইলেকট্রনিক মিউজিকে বাউল সুরের আরও সক্রিয় উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন, যা বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন শ্রোতাপ্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে।