ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

হাইকোর্ট বিচারপতি নাইমা হায়দার পদত্যাগ করেছেন

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তাঁর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির দফতরে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিচারপতি নাইমা হায়দার দেশের বিচার বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের মধ্যে ছিলেন। গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের যোগদানে সন্দেহজনক হিসেবে তিনি সহ আরও ১১জন বিচারপতিকে অনির্দিষ্টকালীন ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত ছিল বিচার বিভাগে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এবং শুরু হয় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত। এই সময় তিনি নিজেও স্বেচ্ছায় বিচারকদের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর, গত আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিচার বিভাগের সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ছুটিতে থাকা ১৩ জন বিচারপতির মধ্যে ৯ জনই তাঁদের দায়িত্ব থেকে অপসারিত বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। বিচারপতি নাইমা হায়দারের আগে হাইকোর্ট বিভাগের আরেক বিচারপতি মামনুন রহমানও পদত্যাগ করেন। বিচার বিভাগে চলমান তদন্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি কিছু বিচারপতিকে বহিষ্কার করেন। নাইমা হায়দার পরিবারের পটভূমি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর কন্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পঠনের পর তিনি কলাম্বিয়া, অক্সফোর্ড ও লন্ডনবিশ্ববিদ্যালয়সহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে জেলা আদালতে আইন পেশার মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়, এরপর ২০০৯ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০১১ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দীর্ঘ বিচারিক জীবন শেষে তাঁর এই পদত্যাগ বিচারাঙ্গণে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে, বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্ব বহন করছে।