শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা করে, খেলা করে, স্বাভাবিক জীবন যাপন করে—তখনই সমাজ এগিয়ে যায়। কিন্তু রুহুল আমিনের জীবন সেই স্বাভাবিকতার বাইরে। করোনায় হাফেজ হওয়া, মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া, জেলার আজান প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করা এই মেধাবী ছাত্রের গল্প কিন্তু এতে থেমে থাকেনি। দুর্ভাগ্যক্রমে, দাখিল পরীক্ষার দুই দিন পর হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন রুহুল। মানুষের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে তার পরিবারের সদস্যরা ১৫ বছর ধরে তাকে একটি জরাজীর্ণ ঘরে লোহার শিকলে বন্দি রেখে আছেন।
রূপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের জাঙ্গীর দারকাবো টেক এলাকার হতদরিদ্র ইদ্রিস আলির ছোট সন্তান রুহুল আমিন চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। বড়ভাই সিএনজি চালক, মেজো ভাই রং মিস্ত্রি আর সেজো ভাই স্যানেটারি কাজ করেন। বাবার অসুস্থতার কারণে সংসারে দিন আনা-দিন খাওয়া, চিকিৎসার ব্যয় বহন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
রুহুল ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। স্থানীয় ফাজিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে কোরআনে হাফেজ হয়েছেন। ২০০৬ সালে জেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় আজানে তিন নম্বর স্থান পেয়ে তিনি তার প্রতিভা প্রমাণ করেছেন। ২০১০ সালে দাখিল পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ে অসুস্থবোধ করে মানসিক সমস্যা দেখা দেয় তার।
২০১৮ সালে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তাকে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসা চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উন্নতি হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন রুহুল আমিনকে যেকোনো সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সম্পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেছেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং রুহুল আমিনের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হলে স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় তা নিশ্চিত করা হবে।
মেধাবী এই ছাত্রের জীবন যেনো বন্ধ হয় না, তার জন্য সবার সহযোগিতা জরুরি। ১৫ বছর শিকলে বন্দি থাকা রুহুল আমিনের আদালত, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠা উচিত—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।







