আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটি συνοেল ৪২টি আসনে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিল, যেখানে ইসি ৩৯টি আসনের সীমান্তে সামান্য পরিবর্তন গ্রহণ করেছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ২৫০টি আসনের ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি বা দাবি না থাকায় বিদ্যমান সীমানাগুলো অটুট রেখেছে কমিশন। আজ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনের অনুমোদনের পর আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৩০০টি আসনে সংশোধনী ও আপত্তি জানাতে পারবেন ভোটার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোটার সংখ্যার বিচারে সংসদীয় আসনের সংখ্যা সামঞ্জস্য করার জন্য কারিগরি কমিটি গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়ানোর এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমানোর প্রস্তাব করেছে। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ভোটার থাকায় সেখানে একটি আসন বাড়ানো হয়েছে, আর বাগেরহাটে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে, তাই সেখান থেকে একটি আসন কমানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে আসনের ভারসাম্য বজায় থাকবে।’
তিনি আরও জানান, দেশের ৬৪ জেলায় গড় ভোটার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। গাজীপুর ও বাগেরহাটের পরিবর্তনের ফলে সমতা বজায় আসবে এবং অন্য কোথাও আসন সংখ্যা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়নি। মোটামুটি করে ৩৯ থেকে ৪২টি আসনে সীমানায় সামান্য সমন্বয় করা হয়েছে।
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের খসড়া গেজেট আজই প্রকাশ করা হবে এবং এই সংক্রান্ত অভিযোগ-আপত্তি ১০ আগস্ট পর্যন্ত গ্রহন করা হবে। আপত্তি পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ করা হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার উল্লেখ করেন, সংশোধনের তালিকায় রয়েছে—পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, শরীয়তপুর-২ ও ৩, ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯, গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬, নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫, সিলেট-১ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩, কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১, নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।
তিনি জানান, সংবিধানের ১১৯ ও ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে নির্বাচন কমিশনের উপর। এজন্য ১৬ জুলাই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ৯ সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়, যারা ৬৪ জেলার ৩০০টি আসনের সীমানা বিশদভাবে পর্যালোচনা করেছে। আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও আদমশুমারির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।









