ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

৭৯তম কান উৎসব উদ্বোধন: পিয়েরে সালভেদোরির ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ নিয়ে পর্দা উঠছে

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন আয়োজনে ৭৯তম কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আগামী ১২ মে থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরে শুরু হচ্ছে। এবারের উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী প্রিমিয়ার হিসেবে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে নির্বাচিত হয়েছে ফরাসি পরিচালক পিয়েরে সালভেদোরির নতুন চলচ্চিত্র ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’। এই বিশেষ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠবে।

প্রতিবারের মতো এ বারও কানের লাল গালিচায় আন্তর্জাতিক মানের অভিনেতা, নির্মাতা ও সিনেমাপ্রেমীদের ভিড় প্রত্যাশিত। উদ্বোধনী রাতে থাকবে জমকালো উপস্থিতি—চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল মুখগুলো আলোকিত করলেই কানের পারব সফল হবে বলে ক্ষণছিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মালিয়ান বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ফরাসি অভিনেত্রী আই হাইদারা, যিনি তার শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য ফরাসি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে সুপরিচিত। পুরো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও উদ্বোধনী সিনেমার প্রদর্শনী ফ্রান্স টেলিভিশন এবং ব্রুট প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, ফলে বিশ্বের বহু সিনেমাপ্রেমী তা ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারবেন। উদ্বোধনের দিনই সিনেমাটি ফ্রান্সের সাধারণ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে, যাতে সাধারণ দর্শকরাও উৎসবের আমেজ অনুভব করতে পারেন।

পরিচালক পিয়েরে সালভেদোরি তার কাজেই সূক্ষ্ম হাস্যরস ও মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ফুটিয়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত। ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ ছবিটিকে তিনি ১৯২৮ সালের প্যারিসকে পটভূমি করে সাজিয়েছেন। এটি একটি রোমান্টিক ও ব্যঙ্গাত্মক মিশ্রধারার গল্প, যেখানে মানুষের আচরণ, আবেগের তীব্রতা এবং সম্পর্কের জটিলতা সূক্ষ্মভাবে উঠে এসেছে। ১৯২০-এর দশকের ধারাবাহিক আবহ ও আধুনিক চলচ্চিত্রনাট্যের সংমিশ্রণে ছবিটি ভিন্ন স্বাদের এক অভিজ্ঞতা দিতে চায়।

কাহিনীর কেন্দ্রে থাকা তরুণ চিত্রশিল্পীটি তার প্রিয়তমার মৃত্যুতে মানসিক ভাঙন অতিক্রম করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টিশীলতা হারিয়ে ফেলে। এক রহস্যময় ঘটনার ফলে তার জীবনে প্রবেশ করে এক নতুন নারী। প্রথমে সে পরিকল্পনা ও কৌশলে চিত্রশিল্পীর জীবন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও কাহিনীর শেষ দিকে সম্পর্কের ধ্রুপদী মোড় দেখা যায়—প্রতারণার সঙ্গে আসা সেই নারী ধীরে ধীরে চিত্রশিল্পীর প্রতি অকৃত্রিম прив্রমণশীল ভালোবাসায় পড়ে যায়। মানবিক দ্বন্দ্ব ও কোমল স্পর্শের এই উপস্থাপন ইতোমধ্যেই সমালোচক ও দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল এবং প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

কানের এই উদ্বোধনী প্রদর্শনী চলচ্চিত্রটির শৈল্পিক ও বাণিজ্যিক উভয় স্বপ্নপথকেই শক্তিশালী করতে পারে—বিশ্ববাজারে পরিচিতি মিলবে ও বিতরণ পর্যায়ে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উৎসবের সুউচ্চ মনোনিবেশ ও সমালোচনামূলক চর্চা ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’-এর ভবিষ্যত যাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে—এটাই সিনেমাপ্রেমীদের প্রত্যাশা।

কান উৎসবের এই রঙিন উদ্বোধনী রাত ও পরবর্তী প্রদর্শনীগুলো সিনেমা পৃথিবীর নতুন কথোপকথন আর আবেগের এক নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলে দৃঢ়ভাবে আশা করা হচ্ছে।