ঢাকা | সোমবার | ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

৭ জুলাই: বাংলা ব্লকেডে স্থবির ঢাকা, কোটা বাতিলের দাবিতে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলসহ ২০১৮ সালে জারি করা কোটা বাতিল সংক্রান্ত পরিপত্র পুনর্বহাল দাবিতে চার দফা দাবির মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর উদ্যোগে রাজধানী ঢাকা ও সার্বত্র দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। এই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরগুলো সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুধু ঢাকা সীমাবদ্ধ ছিলো না, বরং রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, খুলনা, রংপুর, সাভার, সিলেট, দিনাজপুর ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ ও অবরোধের মাধ্যমে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীরা সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। তাদের অবস্থান কর্মসূচি পরবর্তী দিন, ৮ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

৭ জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানান, ‘‘আগামীকাল বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে ‘বাংলা ব্লকেড’ শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা জমায়েত হবে। কোনো আবাসিক হলে বাধা পেলে আমাদের জানানো হবে, আমরা সম্মিলিতভাবে সেই হল ঘেরাও করব।’’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘৮ জুলাই থেকে এক দফা দাবিতে বড় আন্দোলন শুরু হবে। সব গ্রেডে অযৌক্তিক কোটা বাতিল করে ন্যূনতম একটি যৌক্তিক কোটা রেখে সংসদে আইন পাস করে কোটা সমন্বয় করতে হবে। নাতিপুতি এবং পৌষ্য কোটা অযৌক্তিক, এসব বাতিলের দাবি রয়েছে। দাবি মেনে নেয়া হলে শিক্ষার্থীরা আবার পড়াশোনায় মনোনিবেশ করবে।’’

অবশ্য দাবিসমূহ আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন ও ফার্মগেট পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে নাহিদ ইসলাম জানান।

সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দলের আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর একদল প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আন্দোলন নেতাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’

‘বাংলা ব্লকেড’ এর অংশ হিসেবে রোববার ঢাকা শহরের আটটি প্রধান মোড়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। শাহবাগ মোড়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুল ও আগারগাঁওসহ বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ চলে। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গ্রন্থাগারের সামনে হাজারো শিক্ষার্থী জমায়েত হয়ে মিছিল-স্লোগানে রাস্তায় নামেন এবং শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

রাজধানীর পাশাপাশি বোরহান উদ্দিন কলেজ, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণও সংবাদ প্রদানকালে নগরের বিভিন্ন অংশে মিছিল ও প্রতিবাদে অংশ নেয়, যদিও পুলিশ বাধার কারণে মিছিলের গন্তব্য পরিবর্তন করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে পথনাটক, গান, কবিতা পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ চালিয়ে যান এবং একাডেমিক কার্যক্রম ও বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে স্বাধীনভাবে বিক্ষোভ ও অবরোধ পরিচালনা করেন, যার ফলে সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

এভাবে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন নিরাপদ ও সফলভাবে চলছে, যার প্রধান দাবি হচ্ছে কোটা পদ্ধতির সংস্কার ও বাতিল। শিক্ষার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে সরকারের পক্ষ থেকে সমাধান না হলে তাদের আন্দোলন আরও জোরদার হবে।