ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ই-স্পোর্টসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি, গেমারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক স্পোর্টস বা ই-স্পোর্টসকে এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্রীড়া’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অ্যাক্ট-২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ঘোষণায় দেশের গেমিং কমিউনিটি এবং ই-স্পোর্টস সংশ্লিষ্ট সকলেই আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

যদিও ই-স্পোর্টসকে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, এর সুষ্ঠু পরিচালনা এবং নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী ২১ কর্মদিবসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিবে।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইফুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিবের প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির একজন অধ্যাপক, এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া), যিনি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নির্দেশিকা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করবে। এছাড়া, তারা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মতামত সংগ্রহের পাশাপাশি অন্যান্য আইন, বিধিমালা, নির্দেশনা ও সরকারি আদেশ পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

দীর্ঘদিন ধরে ই-স্পোর্টস খাতের উন্নয়নে কাজ করে আসা প্রতিষ্ঠান গিগাবাইট বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান জানিয়েছেন, ‘‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ই-স্পোর্টসকে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এক নতুন ই-স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি দেশের গেমিং কমিউনিটির জন্য এক বড় সাফল্য, যা তরুণ প্রতিভাধর গেমারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এখন তরুণ গেমাররা তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন এবং ই-স্পোর্টস একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। গিগাবাইটের পক্ষ থেকে ই-স্পোর্টস কমিউনিটিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।’’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ই-স্পোর্টসকে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে দেশের তরুণরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং সরকারি সহায়তার পথও সুগম হবে। এই সিদ্ধান্ত গেমিং খাতের আরও দ্রুত উন্নয়ন ও প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।