ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কারাগারে ৭০ হাজার বন্দীর মধ্যে নৈতিকতা শিক্ষার উদ্যোগ চালু: ধর্ম উপদেষ্টা

দেশের ৬৮টি কারাগারে প্রায় ৭০ হাজার কয়েদি ও হাজতিকে নৈতিকতা শিক্ষার মাধ্যমে মানসিক ও মানবিক উন্নয়ন করার কার্যক্রম শুরু করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কারাবন্দীদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ওয়ার্ড পর্যায়ে নামাজের বন্দোবস্ত, নৈতিক শিক্ষা সংক্রান্ত বইপুস্তক এবং জায়নামাজ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি কার্যকর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচালনায় গত এক বছরে ধর্ম মন্ত্রণালয় নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। কারাগারে থাকা ভিন্ন ধর্মালম্বী কয়েদিরাও তাদের ধর্মীয় অনুশীলন এবং ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছেন। অল্প দিনের মধ্যেই প্রথম কিস্তিতে ব্যাপক সংখ্যক ধর্মীয় বই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এগুলো আগে তেমন গুরুত্ব পেত না, কিন্তু বর্তমানে সরকার কারাবন্দীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে আন্তরিক রয়েছে। কেরানীগঞ্জ কারাগারে ইতোমধ্যে ২৫শ’ বন্দি পবিত্র কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছে।

ড. খালিদ আরও বলেন, কারাগারে বন্দিদের নৈতিকতা ও আদর্শ মূল্যবোধ জাগ্রত করা খুব জরুরি, যাতে তারা মুক্তি প্রাপ্ত হওয়ার পর সুষ্ঠু ও প্রশান্ত জীবনযাপন করতে পারে। এজন্য প্রত্যেকের নিজ ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য।

সরকার কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সবসময় সতর্ক এবং ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে ধর্ম শিক্ষা ও লাইব্রেরি পরিচালনা কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে একজন ইসলামি ফাউন্ডেশন শিক্ষক কারাগারে এই কাজ পরিচালনা করছেন এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, কারাগারে থাকা সবাই অপরাধী নয়; অনেকেই মিথ্যা মামলায় বন্দি, তাই আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক নয়। সরকারের লক্ষ্য কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা।

এছাড়া, ধর্ম উপদেষ্টা জানান, চলতি বছরে নির্বিঘ্ন হজ পালনের পাশাপাশি সরকারি হজযাত্রীদের প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, যা এবারের হজ ব্যবস্থাকে বিশ্বের সেরা হিসেবে স্বীকৃত করেছিল।

গত এক বছরে ধর্ম মন্ত্রণালয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ব্যাপক অনুদান দিয়েছে, পাশাপাশি ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার করেছে। রাজনৈতিক বাধা ছাড়াই সরকারের নিয়ম অনুসারে সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে যাকাত ফান্ড থেকে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে প্রায় ১১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা ও অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও হাজারো জনকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

হাওর এলাকায় জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তি, নারী ও শিশু নির্যাতন, মানবপাচার, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ নিরোধে কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বছর ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সংস্কার ও উন্নয়নে বিলক্ষণ উদ্যোগ নিয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে।

এছাড়াও ৩ হাজার ১৪০ জন দুস্তকে ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান ও হাজারো ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওয়াকফ এস্টেটের সেবা প্রদান ও তথ্য মনিটরিংয়ের জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করার কাজও চলছে, যা সফল হলে অনলাইনে সুবিধাগুলো হাতে পাওয়া সহজ হবে।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলছেন, ধর্ম ও নৈতিক মূল্যের শিক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। তাই কারাগারসহ সমাজের সব স্তরে এই শিক্ষাগুলো বিস্তার ও জোরদার করতে হবে।