নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য লুৎফর রহমান খোকাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কারণ তিনি দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে ঘেরাও করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যদিও বিষয়টি বুধবার সকালের মধ্যে প্রকাশ্যে আসে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বহিষ্কারের খবর সঠিক।’ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলীয় নীতি, আদর্শ ও সংহতির পরিপন্থী আচরণের জন্য লুৎফর রহমান খোকাকে দলের সকল সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে, ২৩ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সোনালি সংসদ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে লুৎফর রহমান খোকা বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘শাহ আলমের জন্য আমরা মনোনয়ন আনব এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে আত্মাহুতি দেব। তারেক রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির মহাসচিবকে আমরা ঘেরাও করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ফতুল্লা নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এখানে কোনো জোট চলবে না, ধানের শীষ ছাড়া ফতুল্লাতে আর কিছুই চলবে না। ফতুল্লার মানুষের আবেগ-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কেউ খেলাধুলা করতে পারবে না। ফতুল্লার প্রিয় নেতা শাহ আলমকে বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।’
তবে, দুই দিন পর লুৎফর রহমান খোকা নিজের মন্তব্যটি ‘স্লিপ অব দ্য টং’ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রায় ৮০% ভোটার বিএনপির। যদি কোনো জোটের অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে সেটা ভোটারদের জন্য কষ্টদায়ক হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের বোঝাতে গিয়ে আমি অতিরিক্ত কথা বলেছি, যা সঠিক হয়নি।’








